সাইফুল্লাহ তারেক, আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি ঃ নগরীতে রেলওয়ের বেশকয়েকটি রেলক্রসিং অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এসব ক্রসিংয়ে পারাপারে নিতে হয় জীবনের ঝুঁকি। ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলক্রসিংগুলো এখন যেন একেকটা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নগরীতে সুরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা খুবই সিমিত। আবার অরক্ষিতের সংখ্যা তালিকা বেশ দির্ঘ্য অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে কয়েকটির অনুমোদন দিলেও রেল কতৃপক্ষ সবগুলোতে এখনও পাহারাদার নিযুক্ত করতে পারেনি আর্থিক কারণে। তাই অরক্ষিত ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান ও গেট ব্যারিয়ার। নেই ডিভাইস পদ্ধতির সিগন্যাল সিস্টেমও। একরকম বাধ্য হয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব রেলক্রসিং পার হচ্ছে খুলনা নগরীর শত শত মানুষ ও যানবাহন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলক্রসিংগুলো যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেসব ক্রসিংয়ে পাহারাদার আছেন, সেগুলোতে লোহার প্রতিবন্ধক থাকে। কখনো বাসের সঙ্গে, কখনো মাইক্রোবাসসহ অন্য যানবাহনের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে। অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ছোট একটি সতর্কীকরণ নোটিস ঝুলিয়ে কর্তৃপক্ষ দায়সারে। পাহারাদার ট্রেন আসার শংঙ্কেত পেয়ে প্রতিবন্ধক নামিয়ে অন্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। পাহারাদার নেই এমন নগরীতে অরক্ষিত রেল ক্রসিং আছে অনেকগুলি এর মধ্যে ফুলবাড়ীগেট মাইলপোষ্ট, বাদামতলার ভাঙ্গাগেট , শিরোমনি আলীম মাদরাসা, শিরোমনি তেতুলতলা আফিলগেট চেকপোষ্ট সংলগ্ন মশিয়ালী, পথেরবাজার রেলক্রসিং চরম ঝুকিপুর্ণ।খুলনা রেলওয়ে সুত্রে জানা যায়, যেসব ক্রসিং অবৈধ সেগুলোতে নিজ দায়িত্বে পার হওয়ার মতো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডে দেয়া থাকে। ওইসব রেলক্রসিং দিয়ে সাধারণ পথচারী তাদের নিজের দায়িত্বে দুইপাশ ভালোভাবে দেখে পার হতে হবে। এসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে রেলওয়ের কোনো ধরনের দায়ভার থাকে না।এদিকে, নগরীর একটি অনুমোদিত ক্রসিংয়ের গেটম্যান অভিযোগ করেন, নগরীর কোনো কোনো রেলক্রসিং আছে যেগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। প্রতি ৮ ঘণ্টায় একজন করে গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও অনেক রেলক্রসিংয়ে ২৪ ঘণ্টায় দু’দুজন থাকছে। নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমনি তেতুলতলা সড়ক রেলক্রসিং ইজিবাইক যোগে পার হবার সময়ে ২০১৯ সালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে এতে কেএমপির নারী কনষ্টেবল সাথি আক্তারের মা দুলি বেগম ও সাথির ৩ বছরের শিশু কন্যার ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনার প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হলেও সেখানে আজও গেটম্যান নিয়োগ করা হয়নি বলে জানান এলাকাবাসি। খানজাহান আলী থানা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সভাপতি শেখ আঃ সালাম বলেন শিরোমনির মতো গুরুত্বপুর্ন এলাকায় ২টি রেলক্রসিং অরক্ষিত এ ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী পার হয়। অতিদ্রত এ দিকে নজর না দিলে যে কোন সময় ভয়াভহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি আশংকা করেন ।

0 মন্তব্যসমূহ