Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

সোর্সের অপকর্মে ক্ষুন্ন হচ্ছে খানজাহান আলী থানা পুলিশের ভাবমুর্তি



সাইফুল্লাহ তারেক #
ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক সুবিধা  তুচ্ছ কারণে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে  ফাঁসিয়ে দিচ্ছে পুলিশ সোর্সরা। নানা অপরাধে নিজেরা জড়িত থাকলেও এরা  পুলিশের ক্ষমতায় বলীয়ান। ফলে তাদের সঙ্গে অনেকেই বিরোধে যান না। দির্ঘদিন ধরে থানায় কর্মরত ১ জন এসআই সোর্সের হাতে হ্যান্ডক্যাপ তুলে দিতেও দ্বিধা করছেনা, এমনকি পুলিশ ইচ্ছা করলে সোর্সকে হ্যান্ডক্যাপ দিতে পারে বলেও জানান ওই পুলিশের এস আই।  গুটিকয়েক  অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে ভয়ঙ্কর এসব সোর্স মাদক কারবার, ফুটপাতে চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি  ও অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এদের অনেকের নামে রয়েছে পুরনো মামলা। ভুক্তভোগী ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ জাতীয় সোর্সরা একদিকে নিজেরা দিনে দিনে ভয়ঙ্কর কর্মকান্ডে জড়াচ্ছে, অন্যদিকে কালিমালিপ্ত করছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তাদের অপকর্মে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ফেঁসে যাচ্ছেন। আবার অনেক সময় পুলিশ জেনেশুনে সোর্সদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে।সোর্সদের বেশির ভাগই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতা দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে এবং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে আটকের ভয় দেখাচ্ছে। কেবল তা-ই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে চলাফেরার কারণে সাধারণ মানুষও তাদের নিয়ে আতঙ্কে থাকে। এই সোর্সদের যাবতীয় অপকর্মে প্রশ্নবিদ্ধ হয় পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক ভালো কর্মকান্ড। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, যত মামলা হয় তার ৯০ ভাগ মামলার রহস্যই পুলিশ নিজেরা উদ্ধার করে। ১০ ভাগেরও কম ক্ষেত্রে সোর্সদের সহায়তা নেয়া হয়। থানা পর্যায়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা এসব সোর্স কাম মাদক কারবারিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্য মতে, খানজাহান আলী  থানার মশিয়ালী গ্রামের সোর্স মৃত গনি শেখের পুত্র চোরা রনি নিজেকে এসআই দাবি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছেন। তার নামে  ফুলতলা থানায় অস্ত্র মামলা, খানজাহান আলী থানায় চুরি , ডাকাতি , ছিনতাই সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে । এছাড়া সোর্স রনি আফিলগেট বাইপাস এলাকাতে একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী গড়ে তুলেছে  তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও জুয়ার বোর্ড চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। পুলিশের হ্যান্ডকাপ হাতে তাকে প্রায়ই  দেখা যায়। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স প্রায়ই নিজ স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সোর্সদের ওপর এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে, তাদের দেয়া তথ্য যাচাই না করেই অভিযান চালায়। এতে অনেক নিরপরাধ মানুষ মামলার শিকার হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে যায়। কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার  (দৌলতপুর জোন)  মোঃ জাফর আহম্মেদ  বলেন সোর্স এর হাতে হ্যান্ডক্যাপ তুলে দেওয়ার কোন আইন নেই , যদি কেউ হ্যান্ডক্যাপ তুলে দিয়ে থাকে তাহলে  তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।  এদিকে থানায় যোগদান করেই মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে যুন্ধ ঘোষনা করেছেন খানজাহান আলী থানার ওসি মোঃ কামাল হোসেন খান তার  কঠোর নজরদারীতে কমেছে সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড। থানা অফিসার ইনচার্জ এর এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ  সোর্সের অপকর্মে  ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান এলাকার সচেতন মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ