Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

খুলনা ক্যাবল ফ্যাক্টরীর কর্মচারী করিম’র বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই



সাইফুল্লাহ তারেক , আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি: খুলনার শিরোমনি  ক্যাবল শিল্প লিমিটেড’র একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই তবুও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ ফলে সাধারন কর্মকর্তা—কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন  সুত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে ক্যাবল শিল্প লিমিটেড এর  প্রকর্মী করিম শেখ ( মৌলিক নম্বর ৪৬০) রক্ষনাবেক্ষন ও নির্মান বিভাগ এর বিরুদ্ধে সহকর্মীর স্ত্রীকে মারপিট মামলা, চেক ডিজঅনার মামলা রয়েছে। সহকর্মীর স্ত্রীকে মারপিটের ঘটনায় পক্ষকাল তিনি কারাভোগও করেছেন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে জাল জালিয়াতের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে হাউজ লোন গ্রহন করার। হাউজ লোন গ্রহনের জন্য জমির যে কাগজ দেয়া হয়েছে তাহার দলিল নম্বর—৩৪৩৫ তারিখ—২সেপ্টেম্বর ২০১৩। দাতার নাম তারেক মাহমুদ আর গ্রহিতার নাম করিম শেখ। উক্ত দলিলে জমির দাগ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে ২২০২, জেল এল নং—৩, মৌজা মিরের ডাঙ্গা। কিন্তু স্থানীয় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে এমন কোন দলিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। জানাগেছে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে ক্যাবল শিল্প থেকে ১০ লাখ টাকা লোন উত্তোলন করেছে। ভুয়াকাগজপত্র দিয়ে হাউজ লোন নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে করিম বলেন, এটা আমার নিজস্ব ব্যাপার এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে আমি বাধ্য না। তবে ক্যাবল ফ্যাক্টরীর মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) অঃদাঃ মোঃ মসলেম উদ্দীন এফসিএমএ বলেন, লোন গ্রহনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতারনার আশ্রয় নিলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।অপর দিকে গতবছর ২৪ ডিসেম্বর ক্যাবল ফ্যাক্টরীর কর্মচারী ইমাম হোসেন এর স্ত্রী  গৃহবধূ সালমা বেগম ও তার শিশু সন্তানকে মারধর ও তার বাড়িঘর ভাংচুর এর অভিযোগে ইমাম হোসেনের স্ত্রী মোসা. সালমা বেগম বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা (নং ০৩, তাং ০৩/০১/২২ ) করেন । মামলা দায়েরের পরে পুলিশ কেবল শিল্প পারিবারিক কলোনির মৃত আলি আহম্মেদের পুত্র করিম শেখ (৪৬) ও মৃত শেখ আক্কেল আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন মিন্টু (৪৬) গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেন। আদালত দুই আসামীকে কারাগারে প্রেরন করে প্রায় ১৫দিন কারা ভোগের পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলার বাদীকে অব্যাহতভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিচ্ছে। মামলার বাদী জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ছেলে মো. সাকিব হাসান বাসার সামনে মোবাইলে গেম খেলছিল। এসময় পাশের বাসার দেলোয়ার হোসেন দিলু তাকে চড় থাপ্পর মারে এবং গালিগালাজ করে। সাকিবকে তার মা ঘরে নিয়ে যায়। আধা ঘন্টা পরে অভিযুক্তরা লোহার রড় ও লাঠিসোটা নিয়ে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে সাকিবদের বাসায় হামলা করে ভাংচুর চালায় এবং সাকিব ও তার মাকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় সাকিবের মায়ের স্বর্ণের দুল ও আংটি ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খানজাহান আলী থানার ফুলবাড়ীগেট পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এস আই হাসানুজ্জামান বলেন, মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত আসামি আঃ করিম শেখ ও আনোয়ার হোসেন মিন্টুকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছিলো । খানজাহান আলী থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত চলছে ।মামলার বাদী আরো জানান, করিম তাদের প্রতিবেশি হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ধার হিসেবে গ্রহন করে। কিন্তু নির্দিস্ট তারিখে সে টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করতে থাকলে স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে করিম পাওনাকৃত ৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করে। কিন্তু ব্যাংকে ওই চেক ডিজঅনার হওয়ায় তিনি টাকার দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে মামলার আইনজীবী এড, আবু হুরায়রা সোহেল বলেন, নিয়ম মেনেই আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আশাকরি আদালত সঠিক বিচার করবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ