সাইফুল্লাহ তারেক ঃ বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স ২য় বর্ষের পরিক্ষায় সিক বেডের নামে টাকার বিনিময়ে সম্পুর্ন সুস্থ পরিক্ষার্থীদেরকে নকল করার অবাধ সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে অর্থের বিনিময়ে সুস্থ পরিক্ষার্থীদের সিক বেডে পরিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন । অপরদিকে কলেজ উপধ্যক্ষ ঘুষের টাকা পরিক্ষার্থীদেরকে ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিনে অনার্স ২য় বর্ষ পরিক্ষা ২০২০ গত ১৬ ফেবু্রয়ারী থেকে শুরু হয় । বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরিক্ষা পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজল কুমার গুহ, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল আমিন হোসেন এবং রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র মিস্ত্রী । ১৬ ফেবু্রয়ারী ইংরেজী পরিক্ষায় ঢালাও ভাবে নকলের সুযোগ দেয়ার শর্তে ৪০ জনের অধিক পরিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে মোট লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয় । সেমতে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পেছনের বিল্ডিংয়ের ১০৮ নং কক্ষকে সিক কক্ষ হিসাবে চালিয়ে দিয়ে সুস্থ পরিক্ষার্থীরা এখানে পরিক্ষা দেয়। এছাড়া অবশিষ্ট ৭ টি বিষয়ের জন্য আরো লক্ষাধিক টাকা আদায় করে তাদেরকেও সিক বেডে পরিক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় ।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রকাশ কুমার মালাকারের ২য় তালার অফিস কক্ষে তার উপস্থিতিতে এ টাকা আদায় ও ভাগবাটোয়ারা করেন সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজল কুমার গুহ এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল আমিন হোসেন। বিনিময়ে পরিক্ষার্থীদেরকে কথিত সিকবেডে অবাধে নকলের সুযোগ করে দেয়া হয়। অভিযোগ পেয়ে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের পরিক্ষা নিয়ন্তক এর নির্দেশে গত ২ মার্চ পরিক্ষা চলাকালে জাবির আঞ্চলিক পরিচালক আঃ হকের নেতৃত্বে বিএল কলেজের ২ শিক্ষক সমন্বয়ে ১ টি তদন্ত কমিটি কথিত সিকবেড রুমে পরিদর্শনে করেন । তাদের উপস্থিতি টেরপেয়ে নকলের মহোৎসব বন্ধ করলেও হাতেনাতে ২ পরিক্ষার্থী ধরা পড়ায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয় ।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমানের নির্দেশে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি ) হাফিজ আল আসাদ কে প্রধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর) রাসেলুর রহমান ও ডেপুটি কালেক্টর মোঃ রাশেদুজ্জামানকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয় । তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সিকবেডের নামে উৎকোচ এর বিনিময়ে সুস্থ্য পরিক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন । এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি ) হাফিজ আল আসাদ তদন্তের বিষয়ে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, তদন্তের বিষয়টি এখনও চলমান । তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবেনা ।
অভিযোগ রয়েছে কাজল কুমার গুহ ২০০৫ সালের ২৮ মে বাগেরহাট সরকারী মহিলা কলেজে সংস্কৃতি বিভাগে যোগদান করেন । ২০১৪ সালে ১৪ নভেম্বর পদোন্নতি পেয়ে সহযোগি অধ্যাপক হওয়ার পরও একই কলেজে কর্মরত রয়েছেন । অর্থাৎ পদোন্নতি পাওয়ার পরও ওই কলেজে একাধারে তিনি ১৭ বছর কর্মরত রয়েছেন । দির্ঘদিন ধরে একইস্থানে কর্মরত থাকায় তার অনিয়ম ও দুর্নীতি শিঁকড় গেড়ে বসেছে । তবে অনার্স ২য় বর্ষের পরিক্ষায় পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ এর বিনিময়ে সিকবেডের কথা বলে ১০৮ নং কক্ষে অবাধ নকলের সুযোগ করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সহযোগী অধ্যাপক কাজল কুমারগুহ এবং একই কলেজে দির্ঘদিন কর্মরত থাকা সহকারী অধ্যাপক আল আমিন হোসেন । বিগত বছরের বিভিন্ন সময়ে দুর্ণীতি ও অনিয়ম এর প্রতিবাদ করায় মহল বিশেষ ক্ষিপ্ত হয়ে অপপ্রচার করছে বলে তাদের দাবি । তাছাড়া উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ আন্তরিক হলেই সকল দুর্ণীতি রোধ সম্ভব বলে আল আমিন হোসেন দাবি করেন ।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রকাশ কুমার মালাকার তার উপস্থিতিতে নিজ কক্ষে উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিভিন্ন মহলের অভিযোগের কারনে অনেকের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন । তবে কতজন পরিক্ষার্থীকে উৎকোচের কত টাকা করে ফেরত দেওয়া হলো সেটি তিনি স্পষ্ট করে বলতে চাননি । শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সৈয়দ মোর্শেদ হাসান বলেন , অর্থ বানিজ্য, সিকবেড ও পরিক্ষায় নকল সত্যিই দুখঃ ও লজ্জাজনক । এ কালচার থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস ,এম রফিকুল ইসলাম বলেন লোকমুখে সিকবেডের নামে ১০৮ নং কক্ষ বরাদ্দ দেয়ার কথা শুনলেও এর কোন প্রমান নেই । প্রকৃতপক্ষে ২ অসুস্থ পরিক্ষার্থী মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে সিকবেডে পরিক্ষা দিয়েছে । নকলের অভিযোগে ২ পরিক্ষার্থী বহিস্কারের কথা স্বীকার করে বলেন সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে পরিক্ষা গ্রহনের বিষয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন ।

0 মন্তব্যসমূহ