নাহিদ জামান রূপসা প্রতিনিধি
রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ গ্রামের আল মামুন জন্মগ্রহন করেছিলেন একজন সুস্থ মানুষ হিসাবে। তার বয়স যখন ৫ বছর হটাৎ করে জ্বর হয়। এই জ্বরে মামুনের মাজার নিচের অংশ অবশ হয়ে দুটি পা অকেজ হয়ে পড়ে, এতে প্রথম প্রথম সে কষ্ট পেতো আস্তে আস্তে নিজেকে ঠিক মতন সামলিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার অবলম্বন খুজতে থাকে প্রথমে ভেবেছিল হয়তো তাকে বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষাই করতে হবে কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ( সাঃ) এর শিক্ষা করিও না ভিক্ষা মেহনত করিয়া খাও। কথাটি স্বরন করে সামন্য কিছু পুজি সংগ্রহ করে একটি হাত চালিত ভ্যান ক্রয় করে কর্টনবার, চিরুনি, ছুড়ি, ইদুর মারা বিষ, ছোট আয়না সহ বিভিন্ন রকম অল্প দামের জিনিস ভ্যানে করে বিক্রয় করে দীর্ঘ ২৫ বছর জীবিকা নির্বাহ করছেন।
মামুনের কাছে প্রতিবেদক তার জীবনী জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বিবাহ করেছি আমার দুইটি ছেলে এবং দুইটি কন্যা সন্তান আছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে বড় তারা চতুর্থ শ্রেনীতে লেখাপড়া করে আর একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে ছোট তারা বড় হলে স্কুলে ভর্তি করে দিবো। আমি গরীব মানুষ এবং প্রতিবন্ধি এই সল্প পুজি নিয়ে ব্যাবসা করছি বিভিন্ন হাটে বাজারে এই সব জিনিস বিক্রয় করে প্রতিদিন গড়ে দুইশত টাকার মতন ইনকাম হয় এবং মাসে প্রতিবন্ধি ভাতা পাই সাতশত পঞ্চাশ টাকা এই দিয়ে খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। আমার সংসারের খরচ দিন দিন বেড়েই চলছে। আমাকে প্রতিদিন প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় যেহেতু পুজি কম তাই পরিশ্রম করেও দুইশত টাকার বেশি আয় করতে পারি না। সমাজের বিত্ত্বশালীদের কাছে আমার দাবী তারা যদি আমাকে কিছু পুজির ব্যাবস্থা করে দেয় তাহলে আমি একটি দোকান নিয়ে ব্যাবসা করে সংসার চালাতে পারি। আর সরকারের কাছে একটি দাবী আমাদের মাসে যে সাতশত পঞ্চাশ টাকা ভাতা দেয় এটা খুবই সামান্য আমাদের ভাতার পরিমান বাড়ালে আমরা একটু হলেও ভালোভাবে বাঁচতে পারবো।

0 মন্তব্যসমূহ