যান্ত্রিক শহরে নয়, শহর থেকে দূরে প্রান্তিক গ্রামে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা আমি। আমাকে না কি নদীতে কচুরিপানার সাথে কুড়িয়ে পেয়েছিল!
ছোট একখানা টিনের চাল ওয়ালা ঘর ছিল আমাদের। বাড়ির পাশে ছিল বড় নদী।ছেলেবেলার দুরন্তপনায় মায়ের বারন থাকা সত্বেও ছুটে যেতাম নদীতে,গোসল করতে।গাছের উপর থেকে লাফিয়ে পড়া,কাদা-মাটি তে সুড়ুৎ খাওয়া,কুমির-কুমির খেলা সহ অনেক কর্মকাণ্ড ছিল যা চোখ লাল হওয়া এবং থুতনিতে কাদা জমাতে সাহায্য করত!
বাড়িতে ফিরলে মায়ের হাতে টিনের চালে গুঁজে রাখা কঞ্চি-লাঠি দিয়ে পিটানি ছিল তখনকার দিনের চমৎকার স্বাদের যেটা কোনমতেই এড়ানো যেত না!
বর্ষায় টিনের চালে ঝুমঝুম শব্দ একবার কান বন্ধ করে আবার কান খুলে দুইভাবে শুনতাম!খুব অদ্ভুত লাগতো বর্ষার শব্দ যখন কান হালকা বন্ধ করে শুনতাম!
তখন এক টাকায় চারটি চকলেট পাওয়া যেতো। প্রতিদিনের টিফিনে আমার জন্য ধার্য থাকতো দুই টাকা!মাঝে মাঝে অন্যদের দেখা দেখে মায়ের কাছে বায়না ধরে বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যেতাম যদিও স্কুল আমার বাড়ির পাশেই ছিল।
অনেকে মিলে শাপলা তুলতে যাওয়া,বড়শি দিয়ে মাছ ধরা,বিকেল হলে গোল্লাছুট-দাড়িয়াবান্ধা খেলার মতো মজা এখন নিত্যনতুন মডেলের এ্যান্ড্রয়েড ফোনের গেইমস খেলে পাওয়া যাবে না!
বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলে চড়ুইভাতি করে যে তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছি সেটা এখনকার দামি রেস্টুরেন্টকেও হার মানাবে!
স্কুলের হাসান স্যারের দেওয়াএকটি বাণী এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে।পড়া না করলে তিনি প্রতিবারের মতোই বলতেন-"ফেলিরে ফেলি;বুঝবি দিন গেলি!" ওনার হাতে যে কতগুলো মুখের চোপড়া ধরে টানা খেয়েছি সেটা বেহিসেবী!
স্কুলে প্রথম বেঞ্চে বসার জন্য জানালা দিয়ে বই চেলে জায়গা রাখতাম!সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো প্রতি বৃহস্পতিবার! গান গাইতাম- "ও পাষাণী বলে যাও কেন ভালোবাসনি!"
কোনো ছেলে কোনো মেয়ের কাছে বসলে আঞ্চলিক ভাষায় তখন বলতাম-"ছিমড়াগে ধারে ছিমড়িরা,জিনেরি জিনেরি!"
এমন অনেক স্মৃতি আছে যেগুলো ভাবলে মুচকি হাসি পায়!আজ এই ধাপে এসে,এই ডিজিটাল যুগে এসে,যে যার মতো ব্যস্ত।কেউ কারোর জায়গায় নেই।
সময়ের সাথে মানুষ বদলায়,বন্ধু বদলায়,সমাজ বদলায়,যুগ বদলায়!
অবাক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রায়ই ভাবা হয়-"আমি যাদেরকে মনে করি,যাদেরকে ভীষণভাবে কাছে পাওয়ার,দেখার অভাববোধ করি,তারা কি একটিবার ভুলেও আমাকে মনে করে!?তাদের বন্ধুদের সাথে আমাকে নিয়ে গল্প করে!?"
"" ভালো থাক তোরা~মনের কোনায় জমে থাকা প্রিয় মুখগুলো""

0 মন্তব্যসমূহ