Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

আত্মহত্যা

 



জীবনটা তিল তিল করে ভেঙেচুরে নিঃশেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কারোও আত্মহত্যা ইচ্ছা জাগ্রত হয় না। নিজে নিজেকে হত্যাই আত্মহত্যা। আপনার কাছে মনে হতে পারে কেন একজন মানুষ এমন করে? কেন সে অন্য কোনো উপায় খোঁজে না? কেন সে তার আপনজন বা বন্ধুদের সাথে একটু প্রাণ খুলে নিজের কথাগুলো বলে নিজের সিদ্ধান্তটা পাল্টায় না? কেন?

আসল কথা হলো ওই মানুষটার অবস্থান কয়লার মতো হয় আপনি তাকে যতই ধকরেন না কেন ওর রং বদলায় না। কিন্তু যখনই তাতে আগুন দেন তা চকচক করে জ্বলে ওঠে। আমাদের সমাজে এমন আগুন জ্বালানো মানুষের সংখ্যা কম হলেও জীবনে আগুন জ্বালানো মানুষের সংখ্যা কম নয়।

আমরা সহানুভূতি ও সমানুভূতি সবাই দেখাতে পারি তবে তার স্থানীয়ত্ব কত সময়ের। তার থেকেও বড় কথা যখন আমরা ব্যস্ত না থাকি শুধুমাত্র তখন সহানুভূতি দেখাতে আসি। তা তো ওই মানুষটার জন্য কার্যকরী হয় না বরং বিষন্নতার কারণ হয়। আরও ব্যাপার আছে যদি কেউ সহানুভূতি একবার দেয় তো আজীবন তোমাকে শোনাবে। এদের আবার কয়েকটা ভাগ আছে। যেমন- কেউ কেউ আপনাকে বলবে এসব অভিনয় বাদ দে এখন, কেউ আবার বলবে আমিও এক সময় এমন ছিলাম নিজেকে সময় দে ঠিক হয়ে যাবে, কেউ বলে মেডিটেশন কর, কেউ আবার মানসিক ডাক্তার দেখাতে বলে, কেউ আবার মনোরোগ সম্পর্কিত লেখালেখি বা বই পড়তে বলে আরো কত কি।
এইগুলো সাজেস্ট করে কি আপনারা আত্মহত্যা কমাতে পেরেছেন? আপনারা বলবেন সে যদি চায় তবে কি তাকে ফিরানো যায়? আসলে কতটুকু করেছেন তাকে বাঁচানোর জন্য বেশি হলে নিজের অবসরে সময়ের কিছু সময় দিয়ে তাই না তাও আবার তাকে কাছে ডেকে তার কথাগুলো শুনে নয় নিজের উপদেশগুলো দিয়ে। বরং এতে ওই মানুষটার উপকারের থেকে ক্ষতিই বেশি হয়েছে কারণ সে আরো একবার নিশ্চিত হয়েছে তার কথা শোনার মতো আর কেউ নেই।
এটা তো গেল আপনাদের অবস্থা যারা কেউ  আত্মহত্যা করতে গেলে 
বলতে থাকেন আমার কাছে আসতে পারতো, বাবা বা মাকে বলতে পারতো তাদের অবস্থা। এবার ওই মানুষটার অবস্থান সম্পর্কে বলা যাক। সাধারণত মেন্টাল ডিপ্রেশনে থাকা কোনো মানুষই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কারণ তাদের পক্ষে নিজেকে হারাতে হারাতে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। তার পাশে সে এমন একটা মানুষ খোঁজে যে তার কথাগুলো শুনবে এবং তাকে বোঝাবে তার কোনো দোষ নেই হোক না সেটা মিথ্যে তবুও তো একজন মানুষ পৃথিবীতে থাকবে। আরও একটা ব্যাপার আছে কিছু মানুষ তাদের কথাগুলো শোনে হয় বিরক্তিতে না হলে জড় পদার্থের মতো এতে এদের অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না। বরং দিনে দিনে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যায়। তার কত রাত পার হয় একাকিত্বের যন্ত্রণায় তার খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ থাকে না। এজন্য আপনাদের বলছি এমন মানুষের কথা শুনুন কিছু না পারেন তাকে উপদেশ না দিয়ে বোঝান যা হয়েছে তার জন্য তার কোনো দোষ নেই, তার ভালো গুণ থাকলে সেটা বার বার বলুন আপনার এই অল্প একটু চেষ্টায় হয়তো একটা জীবন বেঁচে যেতে পারে।
আপনি বিপরীতভাবেও তাকে সাহায্য করতে পারেন। তাকে আত্মহত্যা করতে উৎসাহিত করুন এবং এর সাথে সাথে সে চলে গেলে পরিণতি কি সেটাও বলেন। হেমলক সোসাইটি নামক  ভারতীয় মুভিতে দেখানো হয়েছে কোনো মানসিক বির্পযয়গ্রস্ত মানুষ যে আত্মহত্যা করতে চায় তাকে আত্মহত্যায় উৎসাহিত করলে সে আত্মহত্যা করে না। ঠিক এই কারণে তাদেরকে এভাবে বাঁচানো সম্ভব। 

আর যারা ডিপ্রেশনের জন্য মরার চিন্তা  করছেন।
 তাদেরকে বলবো মরে তো যাবেন কিন্তু একবার নিজের মতো বাঁচুন মাত্র  একবার যদি মনে হয় নিজের মতো বেঁচেও আপনি ভালো নেই, আপনার এ জীবন চাই না তাহলে যান আত্মহত্যা করুন। তবে আমি নিশ্চিত একবার নিজের মতো করে বাঁচলে আর মরতে ইচ্ছেই করবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ