শেখ নুরইসলাম
কালকে আমার পরিক্ষা তাই কলেজে গেলাম এ্যডমিড কার্ড আনতে,কলেজের সকল কাজ শেষ করে রাস্তায় দাড়িয়ে আছি গাড়ির জন্য, বাড়িতে আসতে হবে।
কাউন্টারে জিঙ্গাসা করলাম বাগেরহাটের রুটের গাড়ি আসতে কত সময লাগবে, তারা বলল এখনো ২০ মিনিট।
আমি চিন্তা করলাম দাড়িয়ে না থেকে বাদাম কিনে খেতে থাকি,তাই খুজতে থাকি বাদাম পাওয়া যায় কোথায়। কিছু দুরে দেখলাম ছোট একটা ছেলে বসে বাদাম বিক্রি করছে।
আমি আমার মত করে বললাম, ছোট ভাই ১০ টাকার বাদাম দেও তো।
বাদাম নিয়ে সেখানেই দাড়িয়ে খেতে থাকলাম, কয়েকটা বাদাম খেতেই দেখলাম ১২-১৩ বছরের একটা মেয়ে এসে ছেলেটাকে বলতেছে।
সিয়াম বেচা হইছে কিছু,এহন তো দুইটে বাজতি গেল যা বাড়িতে গিয়ে কিছু খাইয়ে আয় আমি আছি।
আপা তুই কিছু খাইছিস?
হ আমি স্কুল থেকে আইসে রান্না করে কিছু খাইছি তুই খাইয়ে আয়।
আমি তাদের দিকে না তাকিয়ে শুধু কথা শুনছিলাম কি বলছে।
আপা কালকে তো আমার স্কুলে যাইতে হবে,নতুন একটা খাতা লাগবে।স্যার কইছিল যে হাতের লেখার জন্য নতুন খাতা দরকার।
আচ্ছা দে হা যাবেনে তুই খায়ে টায়ে তাড়াতাড়ি আসিস আর বড় থালটা নিয়ে আসিস মনে করে।
আচ্ছা আপা বলেই ছেলেটা চলে গেল।
আমি চিন্তা করলাম এতক্ষণ দাড়িয়ে কি করব তার থেকে মেয়েটার সাথে কিছুক্ষন কথা বলি।
মেয়েটাকে ছোট আপু বলে ডাক দিলাম!
ছোট আপু আপনি কি করেন? পড়াশোনা করেন?
হ করি কেন ভাইয়া।
না এমনিই, আর একটু আগে যেই ছেলেটা এখানে ছিল সে কি তোমার ছোট ভাই?
ও আমার ছোট ভাই।
তোমার বাবা মা কি করে?
মেয়েটা চুপ করে থাকল।
বলো তোমার বাবা মা কি করে?
আমার বাবা মা নেই, ছোট থেকে রেল স্টেশনে বড় হইছি।
বাবা মাকে কখনো দেখ নাই?
না কখনো দেখিনেই, পথে পথে থাকি আর ওই খানে (আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল)।
ছোট্ট একটা ঘর আছে সেখানে আমরা থাকি,এক বেটা আমাদের বান্দে দিল।
তোমাদের লেখাপড়ার খরচ কে দেয়?
কে দিবে আবার, আগে ভিক্ষা করতাম তার পর স্টেশনের এক স্যার কয়টা টাকা দিয়ে এই ভ্যান বানিয়ে দিয়েছে। আর কিছু টাকা দিয়েছে তাই দিয়ে বাদাম কিনে এখন বিক্রি করি।
তোমার ভাই কোন ক্লাসে পড়ে?
ক্লাস ওয়ানে, আর আমি ক্লাস ফোরে।
তিন বেলা ঠিক মত খাবার খেত পার এ বিক্রি করে?
ভাইয়া প্রতিদিন যা হয় তাতে দুই ভাই বোনের চলে যায়,আর লোকে আমাদের পুরানো কাপড় দেয় তাই পড়ে থাকি।
তোমরা তো সারা দিন বাদাম বিক্রি করো, কখন স্কুলে যাও?
সপ্তাহে ৬ দিনের ও তিন দিন যাই আমি তিন দিন যাই,যেদিন ও স্কুলে যাই সেদিন আমি যাই না সকালে আমি বাদাম বিক্রি করি।আরে যে দিন আমি যাই সে দিন ও বিক্রি করে।
আচ্ছা তোমাদের বই খাতা, কলম এগুলো কি কেউ তোমাদের দিয়ে সাহায্য করে?
তেমন না বললেই চলে,কারো কাছে তো চাই না চাইলে সকলে ধমক দেয় আর গালি দেয় সে জন্য এখন আর না। আমরা এক খাতা এক কলম দিয়ে দুই ভাই বোন চালিয়ে যাই
লেখাপড়া।
আরো নানা ধরনের কথা বলার পর দেখলাম আমার গাড়ি আসার সময় হয়ে গেছে তাই যেতে হবে।
আমি মেয়েটিকে বললাম,আমাকে ২০ টাকার বাদাম দাও তো?
বাদাম হাতে দিতেই নিয়ে ১০০০ টাকার একটা নোট দিয়ে আমি হাটা শুরু করলাম।পিছন থেকে আমাকে কয়েকটা ডাক দিল ভাইয়া টাকা নিয়ে যান কিন্তু আমি না ফিরে সোজা বাসে উঠে পড়লাম।
আসলে চিন্তা করে দেখলাম আমি কত সুখে আছি, বাবা মা আছে আরো কত কি?
বাবা-মা নিজেদের খরচ দিয়ে কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া করাচ্ছে।আর এরা লেখাপড়া করার জন্য বেচে থাকার জন্য কত সংগ্রাম করতেছে।
আসলে একেই বলে ফাইটার,এরাই আসল যোদ্ধা , জিবন যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার নামই যুদ্ধা।

0 মন্তব্যসমূহ