Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

আমার পতাকা




নাহিদ জামান


আমি একাত্তরের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি যুদ্ধ দেখিনি তার পরও মায়ের মুখে যেটুকু গল্প শুনেছি, তাতেই বুজেছি একাত্তরের পাক হানাদারের পৌচাসিকতা। আমার মায়ের মুখে শোনা বাস্তব গল্পটি আজ ও আমাকে বার বার কাঁদায়। তার পর ও আনন্দে বুকটি ভরে ওঠে এত অত্যচার, জুলুম,  নির্যাতন,  ইজ্জতের বিনিময়ে হলেও তো একটি লাল সবুজ পতাকা পেয়েছি। আমার মা আমাকে ছোট বেলায় ঘুম পড়াবার সময় গল্পের মাধ্যমে বলতো জানিস খোকা তোর ফুফু কোথায়, তোর দাদী কোথায়,  তোর বাবা কোথায়। এই কথাটি বলে মা চুপ হয়ে যেত,  মায়ের ছোঁখ বেয়ে বেয়ে পানি পড়তো, আর আমি মায়ের কান্না দেখে,  নিরবতা দেখে বলতাম, মা বল না ওরা কোথায় গেছে বল না। মা একটু স্বাভাবিক হয়ে বলতে শুরু করতো,  ৭১সালের ১০ নভেম্বর এক দল মানুষ রুপি জানোয়ার আমাদের বাড়িতে এসে হানা দিয়ে তোর বাবা কে ধরে, পাকিস্থানী ছয় ফুট লম্বা লাল কুত্তার বাচ্চাদের হাতে তুলে দেয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল বন্দুক আর তুই ছিলি আমার গর্ভে, তোকে গর্ভে নিয়ে  ওদের কাছে বার বার  তোর বাবার জীবন ভিক্ষা চাইলাম। কিন্তু ওরা তোর বাবা কে ছেড়ে না দিয়ে, গাছের সংঙ্গে বেধে প্রহর করতে থাকলো। আর আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিল। তখন  তোর ফুফুর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। তোর বাবার চিৎকারে তোর ফুফু, দাদা,দাদি এরা সকলে বেরিয়ে এসেছিল ঘর থেকে।  এরা বাইরে আসার সংঙ্গে সংঙ্গে একটি একটি করে তিনটি বুলেট তোর বাবার বুক ছিদ্র করে মাংশ পিন্ড নিয়ে বেরিয়ে গেলো। তোর বাবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। তো দাদা দাদি কেও গাছের সংঙ্গে বেঁধে ফেললো আর তোর ফুফ কে, তোর দাদা, দাদি এবং আমার সামনে বিবস্ত্র করে তাকে নিয়ে নানা রকম রং তামাশা করছিল, তোর দাদা বার বার বলেছিল আমার ছেলেকে মেরেছো, আমার মেয়ের ইজ্জত নিয়ে খেলা করোনা।  পিতা মাতার সামনে মেয়ের ইজ্জত নিয়ে খেলা করলে, কোন পিতা মাতাই সর্য্য করতে পারে না।তোমাদের আল্লার দোহায় লাগে তোমরা আমার মেয়েকে ছেড়ে দাও। সেদিন তোর ফুফু ওদের হাত থেকে ইজ্জত রক্ষা করতে না পেরে, ঘর থেকে দড়ি নিয়ে এসে গাছের সংঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যা করেছিল, আমাদেরই সামনে। আর তোর দাদি এটা দেখে গাছের সংঙ্গে বাঁধা অবস্থায় হার্ড ফেল করে মারা গিয়েছিল। দাদা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছিল না। এই তান্ডব চালিয়ে যাওয়ার সময় ঐ বাকরুদ্ধ মানুষ টিকে একটি বুলেট বিদ্ধ করে ওরা চলে গেল। বুলেটে তোর দাদা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। আমিও বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ১৯৭১ এর ১৬ ই ডিশেম্ভর তুই বিজয় নিশান হয়ে, পৃথীবির আলোই আলোকিত হয়ে এসেছিলি স্বাধীন এই বাংলাদেশে। তাইতো এই লাল সবুজের পতাকা টি তোর। অনেক কষ্টের পতাকা কখনো এর মর্যাদা নষ্ট হতে দিবি না এটা আমার কসম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ