Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

একটি গল্প বলার ছিল.....



সাল টা ২০০৮। প্রাইমারি জীবন শেষ করে তখন দিঘলিয়ায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়।এর মধ্যেই চারপাশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ এসেছে।এখনো মনে পড়ে বোনের বাড়ি'র পাশে বন্ধু ফয়সাল, আমি আর কিছু পোলাপান মিলে নৌকা নৌকা করে দৌড়াতাম। 
ডিসেম্বরের ২৬/২৭ তারিখে বোনের সাথে বাড়ি ফিরে আসি।২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন ছিল (সম্ভবত), নির্বাচনের সন্ধ্যায় আমরা আমাদের আলাইপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সামনে যায়। নির্বাচনের ফলাফল শুনতে কিন্তু সেনাবাহিনী আমাদের তাড়িয়ে দেয়। পরে বাড়ি ফিরে টিভিতে বসে বসে সারাদেশের নির্বাচনের ফলাফল দেখতে থাকি।আমাদের গোটা পরিবার টিভির সামনে বসা।আমাদের পরিবার সবসময়ই অরাজনৈতিক ছিল কিন্তু বড়ভাই ৯৬ থেকে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হওয়ায় আমাদের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সমর্থন দেয়া শুরু করে। ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলো। 

২০১১ সালে আমি কাজদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। কোনো একদিন আমি আর বন্ধু মিষ্টার (এক্স) স্কুল গেট থেকে বের হচ্ছিলাম।তখনকার ছাত্রলীগের একবড়ভাই বললো রায়হান চলো ঘুরে আসি।ভাইয়ের সাথে উপজেলা পরিষদের হলরুমের সামনে গেলাম।সম্ভবত তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ছিল।প্রোগ্রাম শেষে বড়ভাইয়েরা নাম ও মোবাইল নম্বর রেখে দিলো।দুজনকে সিঙ্গারা খাওয়ালো।আমরা চলে এলাম। 

এভাবেই তখন থেকে নিয়মিত দলীয় প্রোগ্রামগুলোতে যেতে থাকি।উপজেলা সদরে লেখাপড়ার করার সুবাদে উপজেলার প্রোগ্রাম গুলোতেই থাকতাম।

মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য খুলনা কান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজে ভর্তি হই।তখন দিঘলিয়ার বারাকপুরে বোনের বাড়িতে থাকতাম।ঐখানকার ছাত্রলীগ নেতা এক ভাইয়ের সাথে টুকটাক প্রোগ্রামে যাতায়াত করতাম। 

তখন ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করেছে।বহুদিন এলাকায় ফিরে দেখলাম যাদের ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দেখে যায়নি,তারা নেতা হয়ে গিয়েছে।বড়বড় পদ পেয়েছে। 

এভাবেই প্রোগ্রামে যাতায়াত চলমান।২০১৭ চলে এলো তৎকালীন ছাত্রলীগের এক বড় নেতার সাথে তুমুল ঝামেলা হয়ে গেলো।আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম। আওয়ামী লীগের আরেকটি সংগঠনে চলে গেলাম। যেথায় যায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেই থাকতাম।
২০১৮ সালের নির্বাচন হয়ে গেলো। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কিছু লোককে চিনতামই না।নির্বাচনের পর তারাই পদ-পদবী নিয়ে নেতা হয়ে গেলো। অনেকে দলের বিভিন্ন নেতাদের বাজার টেনে দিয়ে চাকরী বাকরী ভাগিয়ে নিয়েছে।কেউ কেউ টেন্ডার নিয়ে ঠিকাদারির কাজ ও করেছে।আজ ২০২৩ পর্যন্ত ও তাদের খেল দেখে যাচ্ছি। 

এ রাজনীতির কাছে কখনো চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই,জয় বাংলা স্লোগানের মিছিলের আওয়াজ শুনলে বসে থাকতে পারিনা। আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের রাজনীতিতে কিছু চাওয়ার কিংবা পাওয়ার থাকেনা।

তৎকালীন সময়ে বাবার টাকা ছিল না,বাইক ছিল না।কোনো নেতাকে প্রটোকল দিতে পারিনি,এজন্যই ঝুলিতে বড় পদ পজিশন নাই!! 

শুধু ২০১৪, ২০১৮ এর পরের নেতাদের বড় বড় স্টাটাস দেখি আর হাসি!! 🌼🌼
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু 
জয়তু দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা!!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ