উপ-সম্পাদকীয়
।। জেমস আব্দুর রহিম রানা ।।
আবহমান বাংলার সাধারণ একজন গৃহিণী হয়েও বাংলাদেশের ইতিহাসে যার ভূমিকা উজ্জ্বল। অন্তঃরালে থেকে কঠিন ও সংকটময় মুহূর্তে স্বামীকে দিয়েছেন অনুপ্রেরণা এবং সাহস। সর্বস্ব নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে দাঁড়িয়েছেন নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষের পাশে। তিনি বাঙালির স্বপ্নজয়ের একজন সারথি। যার হৃদয় ছিল কঠোর-কোমলে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে সংসারের অন্তরালে থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন একজন দক্ষ নীরব সংগঠকরূপে। সাংসারিক নানা টানাপড়েন ও শত দুঃখণ্ডকষ্ট পাস কাটিয়ে দুর্দিনে আওয়ামী লীগকে পরিচালনা করেছেন। আর আজীবন ছায়ার মতো পাশে থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে অধিষ্ঠিত করেছেন হিমালয়সম আসনে। এভাবেই ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেওয়া ফজিলাতুন নেছা বাংলার মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন শ্রদ্ধা ও সম্মানে।
শেখ ফজিলাতুন্নেছার ডাকনাম ছিল রেণু। বাবার নাম শেখ জহুরুল হক ও মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম। এক ভাই-দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন্নেছা তার পিতা-মাতা দুই জনকেই হারান।
শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর ফজিলাতুন নেছা বেড়ে ওঠেন দাদা শেখ কাশেমের কাছে। তাকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন চাচি এবং পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি শেখ মুজিবের মা সায়েরা খাতুন। পিতার অভাব বুঝতে দেননি বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানও। বঙ্গবন্ধুর ‘রেণু’ ছিলেন সূক্ষ্ম প্রতিভাসম্পন্ন জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্ববান ও ধৈর্যশীল একজন নারী।
জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী, বাংলার মহীয়সী নারী, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩০ সালের এই (৮ আগস্ট) দিনে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এমন একজন নারী, যিনি সাধারণের বেশে অসাধারণ, বাঙালি নারীর প্রকৃত প্রতিকৃতি।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা ১৯৩৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শুধু সহধর্মিণীই ছিলেন না, ছিলেন সহযোদ্ধা ও কর্মপ্রেরণাদাত্রী। তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার গর্বিত জননী বেগম ফজিলাতুন্নেছা ‘বঙ্গবন্ধু পরিবারের’ সব দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে জাতির সেবায় মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ত্যাগী এই নারী রাজনীতির নানা দুঃসময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন গঠনমূলক পরামর্শ। তার বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পরামর্শসমূহ জাতির জীবনে সুফল বয়ে এনেছে, যা জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে দীর্ঘকাল তার পাশে থেকে মানবকল্যাণ ও রাজনীতির যে শিক্ষা তিনি লাভ করেছেন, তাতে তিনি একজন বিদুষী ও প্রজ্ঞাবান নারীতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।
প্রিয়তমা স্ত্রীকে বঙ্গবন্ধু ডাকতেন ‘রেণু’ বলে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে কিশোর শেখ মুজিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ বিষয়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে শেখ মুজিব লিখেছেন, ‘আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়স ১২ থেকে ১৩ বছর হতে পারে। রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরুব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সঙ্গে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধহয় তিন বছর হবে।’
বিয়ে হলেও শেখ মুজিবের এন্ট্রান্স পাসের পর মূলত তাদের সংসার জীবন শুরু হয়। ১৯৪২ সালে শেখ মুজিব ভর্তি হন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। সেখানেই তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। আর তখন বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে সময় কাটত কিশোরী ফজিলাতুন নেছার। পড়াশোনায় শেখ ফজিলাতুন নেছা বড় ডিগ্রিধারী ছিলেন না; কিন্তু মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন অনেকের চেয়ে বড় হৃদয়ের অধিকারী। দুর্দিনে মানুষের সুখণ্ডদুঃখের সঙ্গী ও আশ্রয়স্থল ছিলেন তিনি। সব সময় দেশের প্রয়োজনকেই বড় করে দেখতেন। নিজে শয্যাশায়ী থেকেও স্বামীকে ১৯৪৬ সালে দাঙ্গায় আক্রান্ত এলাকায় যেতে বারণ করেননি। বরং উৎসাহ দিয়ে তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘আপনি শুধু আমার স্বামী হওয়ার জন্য জন্ম নেননি, দেশের কাজ করার জন্যও জন্ম নিয়েছেন। দেশের কাজই আপনার সবচাইতে বড় কাজ। আপনি নিশ্চিন্ত মনে আপনার কাজে যান। আল্লাহর ওপরে আমার ভার ছেড়ে দিন।’
এমনটা শুধু বেগম মুজিব বলেই সম্ভব হয়েছে। তাই তো তিনি হয়েছেন বাঙালির মাতা- বঙ্গমাতা। শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর ফজিলাতুন নেছা বেড়ে ওঠেন দাদা শেখ কাশেমের কাছে। তাকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন চাচি এবং পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি শেখ মুজিবের মা সায়েরা খাতুন। পিতার অভাব বুঝতে দেননি বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানও। বঙ্গবন্ধুর ‘রেণু’ ছিলেন সূক্ষ্ম প্রতিভাসম্পন্ন জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্ববান ও ধৈর্যশীল একজন নারী।
জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লেখার ক্ষেত্রেও মূল প্রেরণা ও উৎসাহ ছিল তার। স্ত্রীর অবদানের কথা তুলে ধরতে গিয়ে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘আমার জীবনেও আমি দেখেছি যে গুলির সামনে আমি এগিয়ে গেলেও কোনো দিন আমার স্ত্রী আমাকে বাধা দেয়নি। এমনও আমি দেখেছি, অনেকবার আমার জীবনের ১০ থেকে ১১ বছর আমি জেল খেটেছি। জীবনে কোনো দিন মুখ খুলে আমার ওপর প্রতিবাদ করেনি। তাহলে বোধ হয় জীবনে অনেক বাধা আমার আসত। এমন সময়ও আমি দেখেছি যে, আমি যখন জেলে চলে গেছি, আমি এক আনা পয়সা দিয়ে যেতে পারিনি, আমার ছেলেমেয়ের কাছে। আমার সংগ্রামে তার দান যথেষ্ট রয়েছে।’
জীবন সংগ্রামের সব কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে শেখ ফজিলাতুন নেছা পরিবারও সামলেছেন বেশ গুছিয়ে। তিনি প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় দেখা করার সময় বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করতেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ শুনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের তা জানাতেন বেগম মুজিব। অন্যদিকে কারাগারে সাক্ষাৎ করে বঙ্গবন্ধুর মনোবল দৃঢ় রাখতেও সহযোগিতা করতেন তিনি। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় নিজের ঘরের আসবাবপত্র, অলংকার বিক্রি করেও দল ও নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেখ ফজিলাতুন নেছা। একজন রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হয়েও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন তিনি। তার বাড়িতে কোনো বিলাসী আসবাবপত্র ছিল না, ছিল না কোনো অহংবোধ। এমনও সময় গেছে, দল না হয় মানুষের প্রয়োজনে ঘরের আসবাব পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
ছেলেমেয়েকেও গড়েছেন সেভাবে। সন্তানদের যেমন ভালোবেসেছেন, তেমনি শাসন করেছেন। পালন করে গেছেন পিতাণ্ডমাতা উভয়েরই কর্তব্য। কোমলে-কঠোরে মিশ্রিত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই সাহসী নারী স্বামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছেলেমেয়েদের গড়ে তোলেন। তবে ইতিহাসে এই মহীয়সী নারী সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে খুব সামান্যই; অথচ নেপথ্যে থেকে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রতিটি পর্বেই বিশ্বস্ত সারথির মতো অশেষ ক্লেশ স্বীকার করেও বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন ও পরামর্শ দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর পতনোন্মুখ আইয়ুব খান টিকে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকের যে প্রস্তাব দেন, সে ব্যাপারে বেগম মুজিব যে ভূমিকা নেন, তা ছিল ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী। এটি ছিল তার রাজনৈতিক পরিপকস্ফতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দীর্ঘদিন কারান্তরীণ স্বামীর প্যারোলে মুক্তির চেয়ে আন্দোলনের সাফল্য ও ব্যক্তি মুজিবের মর্যাদা রক্ষাই ছিল তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন; কিন্তু আলোচনার শর্ত হিসেবে ‘নিঃশর্ত মুক্তি’র পক্ষে দৃঢ় থাকার জন্য বঙ্গবন্ধুকে জেলখানায় চিরকুট পাঠিয়েছিলেন বেগম মুজিব। ওই সময়টায় গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হলেও বিচলিত ছিলেন না তিনি। বরং তীক্ষè বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মামলাটি আইনিভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে আইনজীবীদের পরামর্শ এবং অর্থের সংস্থান করেন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে ওঠেন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর এ বাড়িই পরিণত হয় নেতাকর্মীদের আপন ঠিকানায়। এখান থেকে পরিচালিত হয় দলীয় ও মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনামূলক নানা কার্যক্রম। রাতবিরাতে ৩২ নম্বরে অভুক্ত ছাত্রনেতা কিংবা রাজনৈতিক কর্মীদের নিজের হাতে রেঁধে মায়ের স্নেহে, বোনের মমতায় পাশে বসে খাইয়েছেন বেগম মুজিব।
খোকা থেকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা, হয়ে ওঠার পেছনে বেগম মুজিব যে কতটা প্রভাবশালী অনুঘটকের মতো কাজ করেছিলেন তা আরেকটি ঘটনা থেকে সহজেই প্রতীয়মান হয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক জনসভাকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুজিব কি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন? চারদিকে টানটান উত্তেজনা। কী বলবেন তিনি? ছাত্ররা চায় তিনি ওই দিনই স্বাধীনতা ঘোষণা করুন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে জানিয়ে দিয়েছে, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে অনুরোধ করেছে- সবকিছু শেষ করে দেবেন না। ‘অপারেশন ব্লিৎস’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছে- বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে উপস্থিত জনতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে; রেসকোর্স ময়দানের আকাশে সেজন্য চক্কর দিচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার।
বঙ্গবন্ধুর শরীরও অসুস্থ, ঈষৎ জ্বর। কিন্তু বেগম মুজিব ছিলেন ধীর-স্থির। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘...এই মানুষগুলোর জন্য তোমার মনে যা আসবে, সেটাই তুমি বলবা।’ এরপরই বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন তার অনবদ্য ঐতিহাসিক ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’। যে ভাষণের জন্য তিনি স্বীকৃতি পেলেন ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে। এই ভাষণ এখন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, যা শুনলে বাঙালি মাত্রই শিহরিত হয়। এছাড়া ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলনেও বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দীপক ও পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যায় শেখ ফজিলাতুন নেছাকে।
শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯টি মাস অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্য নিয়ে বেগম মুজিব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। এ সময়টায় ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেকটা বন্দিদশায় কেটেছে তার। এমনকি জুলাই মাসে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে শেখ হাসিনাকে দেখতে দেওয়া হয়নি তাকে। শেখ ফজিলাতুন নেছা ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন সংগ্রামী নারী, বাংলার স্নিগ্ধ নারী। বঙ্গমাতার সেই দূরদৃষ্টি ও বুদ্ধিমত্তার ছাপ আমরা দেখতে পাই তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে। যার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় সব বাধা-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে চলছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ।
বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আপোষহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে শুধুমাত্র বাঙালি জাতির পিতাই হননি, বিশ্ব বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।
মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ভেঙে না পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। যুদ্ধ পরবর্তীকালে দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে কাজ করেছেন, গরিব-এতিম-অসহায় মানুষদের সাহায্য করেছেন, বীরাঙ্গনাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার মতো মহৎ দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাত্র ৪৪ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ অন্য সবার সঙ্গে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকেও হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকের দল। তবে একজন শেখ ফজিলাতুন নেছা বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন তার কর্মে-আদর্শে, শক্তি এবং মমতাময়ী রূপে- বাংলার ঘরে ঘরে। ৯৩তম জন্মদিনে বাঙালির এ স্বপ্নজয়ের সারথির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
# লেখক: সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী ও কলামিস্ট।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।

0 মন্তব্যসমূহ