সাইফুল্লাহ তারেক, আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি ঃ খানজাহান আলী থানা বিএনপির তৃণমূলে মনোবল ফিরিয়ে এনে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে। তাদের মতে এ মুহূর্তে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা ও সাহস জোগানো প্রয়োজন। আগামী দিনে করণীয় সম্পর্কেও তাদের গাইডলাইন দেয়া জরুরি। ফলে নির্বাচনের পর ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে। এর ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে আন্দোলন—সংগ্রামসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে। এমনটা ভেবেই নেতৃবৃন্দরা কাজ করছেন, এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়েছে দলের তৃনমুলের নেতাকর্মিদের মাঝে। যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন এবং তৃণমূলের মতামত না নিয়ে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে বন্ধু কমিটির নামে পদ ভাগাভাগি করে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ । তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। এতে দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে না। উল্টো যারা মামলা—হামলা সহ্য করে রাজনীতি করছেন, তারা নিরুৎসাহিত হবেন। ক্ষোভে—অভিমানে অনেকে রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ওহিদুজ্জামান বলেন , গত সংসদ নির্বাচনে যারা আওয়ামীলীগকে ভোট ডাকাতি করতে সুযোগ করে দিয়েছে তাদের হাতে দলের নেতৃত্বে তুলে দেওয়া হচ্ছে । এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। আমাদের এখন মূল কাজই হচ্ছে হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীদের জাগিয়ে তোলা। তাদের স্বপ্ন দেখানো।খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন বলেন যোগ্য , ত্যাগী এবং আন্দোলন—সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদেরই নেতৃত্বে না এনে বিগত ১৭ বছর যাকে বিএনপির কোন প্রোগামে পাওয়া যায়নি তাকে বিএনপির আহবায়ক কমিটির গুরুত্বপুর্ন দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে । এটা তৃণমূলের নেতাকর্মিরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা । মহানগর আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পর ক্ষুদ্ধ তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করতে কোনো গাইডলাইন বা দিকনির্দেশনা ও মনিটরিং নাই। ফলে হতাশ হয়ে পড়েন দলটির প্রতিটি থানার ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান না করলে দলটির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করেন ১ নং আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক শেখ আনোয়ার হোসেন । এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি , নতুন নির্বাচনের দাবি থানা এলাকার মৃত্যুবরনকারী দলিয় নেতাকর্মির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা , মৃত্যুবরনকারী নেতা কর্মীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান, ইফতার মাহফিল, ঈদপুর্নমীলনি সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ । জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পর থেকে তৃণমূলে এক প্রকার হতাশা সৃষ্টি হয়। এ হতাশা দূর করতে ইতিমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খোজখবর নিচ্ছেন , এমনকি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন । অচিরেই এর সমাধান হবে । খানজাহান আলী থানা বিএনপির আটরা গিলাতলা, যোগিপোল ও কেসিসি ২ নং ওয়ার্ডের তৃনমুলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে অস্থিরতা কাজ করছিলো সাবেক বিএনপি নেতৃবৃন্দের নানা কর্মকান্ডের কারনে একটা চাঙ্গাভাব তৈরি হয়েছে। থানা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আহ্বায়ক কমিটি দেয়ার পর তৃণমূল নেতাকর্মীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে । খুলনা মহানগর বিএনপিকে উত্তর—দক্ষিণ দুটি সাংগঠনিক অংশে ভাগ করার মাধ্যমে দলের কোন্দল নিরসন সম্ভব ও বলে মনে করেন অনেক দলিয় নেতাকর্মি । এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, এবার পার্টিতে পুরোপুরি গণতন্ত্র থাকতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। নিজ যোগ্যতায় নেতৃত্বে আসতে হবে। কাউকে অনুকম্পা বা দয়া করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি এ প্রক্রিয়াটিই সঠিক। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। এতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতারা স্থান পাবেন বলে আশা করি।

0 মন্তব্যসমূহ