সাইফুল্লাহ তারেক , ঃ রমজান মাসে বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট ও দাম বেড়ে যায়। এ কারণে এ থানজাহান আলী থানা এলাকাতে সরিষার তেলের চাহিদা বাড়ে। বাজারে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়েন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষার তেলের প্রতি। গতকাল বৃহস্পতিবার থানা এলাকার শিরোমনি, ফুলবাড়ীগেট, ইষ্টর্ানগেট সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখনো সয়াবিন তেল সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশকেরা বোতলজাত সয়াবিন তেল চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা লিটার। সরকার লিটার প্রতি সয়াবিন তেলের দাম ৩৮ টাকা বাড়ালেও ভোক্তাপর্যায়ে এই দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে ভোক্তাপর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৮ টাকা লিটার। শিরোমনি বাজারের তেল ব্যবসায়ি মোঃ শাহিন জানান সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার পর থেকে বাজারে সরিষার তেলের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে দামও বেড়েছে অনেক।বাজারে তিন ধরনের সরিষার তেল পাওয়া যায়। বিভিন্ন কোম্পানির তেল ছাড়াও স্থানীয়ভাবে মেশিনে ভাঙানো তেলের পাশাপাশি মেলে ঘানি ভাঙানো তেল।বাজারে রাঁধুনি সরিষার তেল প্রতি লিটার ৩৬০, তীর ২৮০ টাকা ও সুরেশ সরিষার তেল প্রতি লিটার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ব্র্যান্ডের সরিষার তেলও বেশির ভাগ ৩০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। আগে কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার বোতলজাত সরিষার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। কয়েকদিন আগেও স্থানীয়ভাবে মেশিনে ভাঙা সরিষার তেলের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। সেই তেল বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। আর ঘানি ভাঙানো তেল মিলছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়।থানা এলাকাতে আখি অয়েল মিল , সহ বেশ কয়েকটি ঘানি ভাঙা তেলের মা্যশিন রয়েছে। আবজাল নামে ঘানি ভাঙা তেলের মা্যশিন এর হেড মিস্ত্রী বলেন , ‘আগে প্রতি দিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি সরিষার তেল বিক্রি করতাম, এখন ৮০ কেজির ওপরে বিক্রি হয়। বর্তমানে সরিষার বাজার চড়া তাই লাভ কম হয়।’ডাঃ মোঃ আলাউদ্দিন শিকদার বলেন, সয়াবিন তেলের তুলনায় সরিষার তেল স্বাস্থ্যসম্মত। কেমিক্যালমুক্ত ঘানি বা মেশিনে ভাঙানো খাঁটি সরিষার তেল গ্যাস্ট্রিকের জটিলতা ও রক্তে চর্বি দূর করে।
0 মন্তব্যসমূহ