Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

রমজানের শুরুতে শিরোমনি — ফুলবাড়ীগেট বাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম



সাইফুল্লাহ তারেক , আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি: আজ পবিত্র মাহে রমজানের ১ম দিন।  সংযমের মাসটি এলেই যেন বাজারে নিত্যপণ্যের দামের ঘোড়া আরও পাগলাটে হয়ে ওঠে। অন্য সময়ে রোজার আগে বাজারদরে বড় ধরনের হেরফের টের পাওয়া গেলেও, এবার আগেভাগে দাম বাড়ার কারণে এই আঁচ খানিকটা কম। করোনার ধকল এখনো কাটেনি। এর মধ্যেও টানাটানির সংসারে বাড়তি খরচের চাপে অনেকটাই বেসামাল মধ্যবিত্তের দিনযাপন।  আয় তো বাড়েইনি, উল্টো প্রতিটি জিনিসপত্রের বাড়তি দাম; বাসাভাড়া, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের বাড়তি বিল, বাচ্চার স্কুল—কলেজের খরচসহ প্রতিদিনের প্রতিটি পণ্য ও সেবার পেছনে অন্যায্য খরচের বোঝা বহন করে প্রায় দিশেহারা স্বল্প আয়ের মধ্যবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ।সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও এখনো অনেক পণ্যের দাম কমেনি। গিলাতলা কেডিএ আবাসিক এলাকার ১ টি  বাসায় ভাড়া থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল ইসলাম । এক ছেলে, এক মেয়ের সংসারে তাঁরা স্বামী—স্ত্রী সহ  চারজন। তিনি জানান, বাসাভাড়া দেওয়ার পর হাতে যে টাকা থাকে, তা দিয়ে চাল, ডাল ও অন্যান্য দরকারি নিত্যপণ্য কিনতেই শেষ। বেতনের টাকায় চলে না বলে বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বেশ কয়েক দফায় ধারকর্জ নিয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, জুটমিলের শ্রমিক , স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে শুধু একজন কামরুল  নয়, এ রকম অসংখ্য কামরুল  নিত্যদিনের কঠিন সংগ্রামের ঘটনা জানা যায়। যাঁরা কোনো দিন টিসিবির লাইনে দাঁড়াননি, তাঁদের অনেকেই এখন টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘসময় ধরে লাইন দিচ্ছেন। কেউবা সরকারের ভর্তুকি দামে কয়েকটি নিত্যপণ্য কিনে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।রোজায় ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, খেজুর, ছোলা, বেগুন, শসা, লেবু, গরু ও খাসির মাংসের চাহিদা বেশি থাকে। সম্প্রতি মাংসের দামেও রেকর্ড গড়েছে।বাজারে এখনো ভোজ্যতেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।  শনিবার  (১ এপ্রিল) শিরোমনি  বাজারে বেগুন বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৩০—৩৫  টাকা থেকে বেড়ে গতকাল   ৬০—৭০ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়েছে । এ ছাড়া  ৫০—৬০ টাকায় পটল, ৬০—৭০ টাকায় বরবটি, ঢেঁড়স ৬০—৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস চাল কুমড়া  ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তাছাড়া কেজিপ্রতি শিম ৪০—৬০ টাকা, প্রতি কেজি করলা ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৫০—৬০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা ও শালগম ও পেঁপে ৪০ টাকা কেজি এবং কচুর লতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি । তবে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম পাঁচ টাকা কমেছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। কেজি প্রতি বিক্রয় হচ্ছে ৮০ টাকা। এদিকে মাংসের বাজারে দেখা গেছে, ১৬০—১৭০ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি, ৩০০—৩২০ টাকা কেজিতে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ৬৫০  টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে।আর মাছের বাজারে দেখা গেছে, রুই ও কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০—৪০০ টাকা কেজি দরে। ২৫০—৩৫০ টাকা কেজিতে শিং ও টাকি। এ ছাড়া তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি ১৫০—১৭০ টাকা। প্রতি কেজির ইলিশ মাছ ১০০০—১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৬৫—১৭০ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১৩৬ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৫—৮০ টাকায়, ছোলা ৭০—৭৫ টাকায়। মসুর ডাল মোটা দানা ৯৫—১০০ টাকা, সরু দানার ১১৫—১৩০ । শিরোমনি বাজার বনিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আজাদুর রহমান হিরোক বলেন , রোজা শুরুর দুই থেকে ৩  দিন আগে থেকে মানুষ একসঙ্গে বাজারে আসে। আর রোজার পাঁচ দিন পর্যন্ত পণ্যের ওপর বেশি চাপ থাকে। সে কারণে দাম কিছুটা বাড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ