সাইফুল্লাহ তারেক, আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাই চক্র। ঘটছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রতি বছর ঈদ এলেই প্রতারক চক্র, চোর ও ছিনতাই কারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষজনকে বিভিন্নভাবে ধোকা দিয়ে নগদ অর্থসহ, স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেট অথবা প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।এবার ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল সন্ধার পর পিটিআই মোড় থেকে আফিলগেটের উদ্দেশ্যে সিএনজি'তে (১১—২২২৪ নাম্বার) গাড়িতে ওঠেন দুইজন স্বাস্থকর্মী। তাদেরকে আফিলগেটে না নামিয়ে রূপসা বাইপাস অভিমুখে দ্রুতবেগে ছুটে যায়, পথিমধ্যে উক্ত যাত্রীদের গলায় ছুরি ধরে এবং তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও বেতনের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে বাইপাস সড়কে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় । ছিনতাইকারীর কবলে পড়া একজনের বাড়ি আফিল মিলের ভিতরে অন্যজন আটরা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা । একই দিন ভোর বেলা শিরোমনি বাইপাস সড়কে পাপড়বাহী এক ভ্যান চালককে গলায় ছুড়ি দিয়ে তার কাছে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনতাই করে । গত ২৯ মার্চ রাত ৮ টার সময় শিরোমনি বিল ডাকাতিয়া এলাকার ২ জুট মিল শ্রমিক( স্বামী স্ত্রী) বাইপাস দিয়ে পায়ে হেটে যাওয়ার সময়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। এসময় তাদের কাছে থাকা ৩ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয় ছিনতাইকারীরা । এছাড়া গিলাতলা কেডিএ আবাসিক এলাকাতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ টি চুরির ঘটনা ঘটেছে । গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সময় আবাসিক এলাকার প্রদীপ কুমার এর ২য় তালার ভাড়াটিয়া ভৈরব কুমার মিস্ত্রির দামি বাইসাইকেল নিচতলার সিড়ি রুম থেকে তালাকেটে কৌশলে কে বা করা নিয়ে যায় । গত ৫ এপ্রিল আবাসিক এলাকার মোঃ রাকিবের বাইসাইকেল এবং তার আগে হিরা বেগমের বাড়িতে চুরি হয় । ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষজন গ্রামের বাড়িতে ঈদ করার জন্য আসে। অনেকে গভীর রাতেও একা কিংবা পরিবার পরিজন নিয়ে রাত করে তাদের গন্তব্যে ছুটে যান।তাই তাদের নিরাপত্তার জন্য চোর ও ছিনতাই কারীদের কবল থেকে বাঁচতে থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ পাহারা জোরদারের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতনমহল। পুলিশ বলছে, ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বাড়তি নজর রয়েছে তাদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছিনতাইয়ে জড়িতদের বেশির ভাগই কিশোর, উঠতি তরুণ ও গাড়িচালক। কিছু ভুক্তভোগী মামলা করেন, অনেকেই করেন না। কোনো থানা যদি ছিনতাইয়ের মামলা না নিতে চায়, তবে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানাতে বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ দিকে বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যে কারা কারা ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে তা—ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

0 মন্তব্যসমূহ