এবারের লকডাউনটা না যেন কেমন, গ্রামে বসবাস করি তো তাই ভিন্নতা থাকবেই।তবুও! জনগন মনে হচ্ছে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে ১. অনটাইম টিস্যুর মতো। ২. বারবার ব্যবহার করা গামছার মতো। ৩. বাকি সবাই ব্যবহার কারি।
সকালে আমি এমনিতেই ঘুম থেকে দেরি করে উঠি কারন রাত জেগে কাজ করতে হয়। প্রতিদিনের মতো আজকেও নয়টার দিকে ঘুম থেকে দাঁত ব্রাশ করতে করতে পুকুর পাড়ে যাচ্ছি হঠাৎ ঝগড়ার শুনতে পেলাম। কিছুদুরে বেশ কয়েকজন জড় হয়ে আছে মাঝে একজন অপরিচিত লোক কাধে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লকডাউনের সময় ওখানে আবার কী হলো কৌতুহলী হয়ে আমি সেখানে উপস্থিত হোলাম মুখে কারো মাস্ক নেই ( স্থানিয় নিজেরা নিজেরা তো তাই আরকি) কিন্তু অপরিচিত লোকটার মুখে মাস্ক। আমি চিন্তা করলাম হয়তো কোনো ত্রান সংস্থার লোক হবে, কিন্তু ঝগড়া করছে কেন? মনে এই প্রশ্ন জাগায় আমি একজনকে পাশে ডেকে নিয়ে বললাম।
কি হয়েছে এখানে, চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনতে পেলাম? তখন সে বলব এনজিও থেকে কিস্তির টাকা নিতে এসেছো।আমি বললাম লকডাউনে না সব বন্ধ,শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ও সরকারি এবং কিছু বেসরকারি সেবাদান কেন্দ্র ব্যতিত?
তা তো আমরা জানি তবুও আসছে কিস্তির টাকা নিতে।
চিল্লাচিল্লি হচ্ছে কেন এখানে?
রবি আর শামিমের মা টাকা দিতে পারি নেই সে জন্য, স্যার টাকা না নিয়ে এখান থেকে যাবে না।
আচ্ছা দেখি বলে সামনে দিকে গেলাম।
আচ্ছা করোনার ভেতর এখানে সবাই জড়ো হয়েছেন কেন? আর আপনি কে এই করোনার ভেতর এই গলিতে কি করেন?
দেখ বাপ রবির বাপের আটো বন্ধ কোনো ইনকাম নেই, স্যাররে বলেছি এই সপ্তাহের টাকা আগামি সপ্তাহে দিয়ে দিবো ১১ তারিখের পর তো সব খুলে দিবে তার পর ইনকাম হলে দিবো। তুই ক বাপ এখন এই করোনার সময় কিডা আমারে ৫০০ টাকা ধার দিবে, সকলের টানাটানি।
করোনাই না আপনাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ?
ভাই বন্ধ থাকলে কি আমি এখানে আসতাম, আর ব্যাংক ১২ :৩০ টায় বন্ধ হয়ে যাবে তাড়াতাড়ি টাকার ব্যবস্থা করেন।
কিরে ভাই মগের মুল্লুক পাইছেন নাকি, লকডাউন দিয়েছে জানেন যে এরা দিন মুজুর তা হলে কাজ না থাকলে টাকা দিবে কোথা থেকে?
ভাই এইডা আমি বলতে পারি না কর্তৃপক্ষকে বলেন, আমি এখানে টাকার বিনিময়ে কাজ করি। তারা যেটা আমাকে বলবে সেটি আমার করতে হবে।
বুঝলাম আপনার কথা, তবে এরা টাকা এখন পাবে কোথায়।আপনারা সকল কিছু জেনেশুনে টাকা দিয়েছেন না।
ভাই এ কেমন প্রশ্ন টাকা পাবে কোথায়, টাকা তো প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়েছে।আর ভাই ধরেন এই দুজনের টাকা আমি না নিয়ে অফিসে যায় তা হলে বস কি করবে জানেন। আমার বেতন থেকে টাকাটা কেটে রাখবে।আপনি কি আমার পেটে লাথি মারতে চান।
আচ্ছা ঠিক আছে করার আর কী, মারবেন যখন এদের চারিদিক থেকে মারবেন।এদিকে লকডাউন এদের ঘরে খাবার নেই,কাজ নেই, কেউ সাহায্য ও করতেছেন না।লোন নিয়েছিলো তা থেকে ও মাপ নেই, আপনাদের ও ছুটি নাই।যারা বাঁচবে তারা সেভাবেই বাঁচবে আর যারা মরবে তাদের সাধারন মরণ নয় ধুকে ধুকে মারবেন।কিছুক্ষণ দাঁড়ান দুজনের কত টাকা বলেন আমি পাঁচ মিনিট পরে দিতেছি।আর এখানে সবাইকে বলি সামনে যদি কখনো লোন নিতে হয় তাহলে যেন এইটা বলা থাকে যে প্রকৃতিক দুর্যোগের সময় লোনের টাকা পরিশোধে করতে পারব না।

0 মন্তব্যসমূহ