Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

ঝিনাইদহে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের এক সময়ের দুর্দান্ত মেধাবী ছাত্রের দিন কাটছে এখন রাস্তায়




এস,এম,রবিউল ইসলাম  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
অভিজাত পরিবারে জন্মেছিলেন সোনার চামচ মুখে দিয়ে আব্দুল গাফফার । কৈশর যৌবনে ছিলেন দুর্দান্ত মেধাবী ছাত্র। কর্মজীবনে পেয়েছিলেন “অংকের যাদুকর। কঠিন ও জটিল অংকের সহজ সমাধান দিতেন তিনি । ঢাকায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতাও করেছেন সুনামের সাথে। নিজ এলাকায় গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের পন্ডিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। বীজগনিতের উৎপাদক বিশ্লেষণের ফর্মুলা আবিষ্কার করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন এই  আব্দুল গাফ্ফারের দিন কাটে এখন রাস্তায় রাস্তায় !
বয়স সত্তরের কাছাকাছি প্রায় তবে গায়ে দুর্গন্ধময় ময়লা কাপড়, মাথা ভর্তি আউলা ঝাউলা চুল, আপন মনে হেটে চলেন পথ দিয়ে। এমন একজন মেধাবী শিক্ষকের করুণ পরিণতি দেখে পরিচিতরা হতবাক হলেও তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব কেও নেন নাই,আসলে কেউ কারো না ! অথচ তার নিপুণ মেধায় গড়া কত ছাত্র  প্রশাসনের উচ্চ পদে কর্মরত বাহ!তারা কি খোজ রাখেনা ? ময়লাযুক্ত ছেড়া জামা কাপড় ও পাগলবেশি আব্দুল গাফ্ফার, বছরের পর বছর ঘুরছেন এই ভাবে পথে পথে।মসজিদ, স্কুলঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দা এখন এই জনপ্রিয় শিক্ষকের বসবাসের জায়গা! তথ্য নিয়ে জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খামারাইল গ্রামের কাজী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।এলাকায় তাদের পরিবার অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত হিসেবে পরিচিত।আব্দুল গাফ্ফারের মেজ ভাই কাজী আব্দুল গনি র্নিবাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন। ছোট ভাই কাজী আব্দুল কাদের ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। তবে তাদের কোন ভাইয়ের সংসার জীবন বা সন্তানাদি নেই !এ এক র্নিমম পরিহাস । গ্রামবাসি সুত্রে জানা গেছে, মাত্র ১০ বছর বয়সে পিতৃহারা হন আব্দুল গাফ্ফার। পিতৃহীন তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে হতাশায় পড়েন সদ্য বিধবা মা কাজী বদরুন্নেছা। তাই সন্তানদের নিয়ে বদরুন্নেছা চলে আসেন মহেশপুর পৌর এলাকার জলিলপুর মোল্লা পাড়ার পিতার বাড়িতে। নানা নুরুদ্দীন আহম্মেদের বাড়িতে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন আব্দুল গাফ্ফার। বেড়ে ওঠেন তুখোড় মেধাবী ছাত্র হিসেবে। এলাকায় তার মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে। মা বদরুন্নেছার দ্বিতীয় বিয়ে হয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি ও তৃতীয় বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ছাউলিয়া গ্রামে। মা বদরুন্নেছার সন্তানদের অনেকেই এখনো মহেশপুরের জলিলপুরের নানা বাড়িতে বসবাস করেন। এদিকে আব্দুল গাফ্ফার জগন্নাথ কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ও এমএসসি পাশ করে ঢাকার মানিক নগর ও পরে মতিঝিল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিয়ে করেন নড়াইলে। তার স্ত্রীও ছিলেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক।অজ্ঞাত কারণে আর সংসার করা হয়নি। ৩০ বছর ঢাকায় বসবাসের পর তিনি মহেশপুর চলে আসেন। গাফ্ফারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী (মায়ের তৃতীয় পক্ষ) ছিরবা আক্তার ঝর্ণার ভাষ্যমতে তার শ্বাশুড়ি বদরুন্নেছা বেঁচে থাকাবস্থায় মাঝেমধ্যে আব্দুল গাফ্ফার বাড়িতে আসতেন। ২০০৬ সালে ২৭ মার্চ শ্বাশুড়ি মারা গেলে আর আসেন না। এখন মসজিদ ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।এলাকা বাসি জানান, তার নিপুণ মেধায় গড়া কত ছাত্র  প্রশাসনের উচ্চ পদে কর্মরত তাদের মধ্যে কেউ আগায়ে আসলে আব্দুল গাফ্ফারকে হয়তো ভালো করা সম্ভাব হবে ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ