Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

ওরা ১১ জন




ঋতু দে,স্টাফ রিপোর্টারঃ
কৃষ্ণচূড়ার  শ্যামল ছায়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ  প্রাঙ্গনে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে  কটকা সৌধ। এটা শুধু একটি সৌধ নয় কিছু তাজা প্রাণের অকাল প্রয়ানের চির সাক্ষী। মুহূর্তেই একটি স্বাভাবিক সুন্দর আনন্দ ভ্রমণ পরিণত হয়েছিল অন্তিম আঁজুমানে। করালগ্রাসী স্রোতে দমকা হাওয়ার মতো হঠাৎ মিলিয়ে গেল যেন সকল উৎফুল্লতা।জীবন বাঁচানোর আত্মচিৎকারে সামিল হল ওরা ১১ জন।দিনটি ছিল ২০০৪ সালের ১৩ মার্চ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কালো অধ্যায়।১৩ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস। ২০০৪ সালের ১২ ই মার্চ  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল সুন্দরবন ভ্রমণে ।  ডিসিপ্লিনের ৭৮ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের ২০ জন অতিথি নিয়ে তারা খুলনা থেকে রওনা দেয় সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে। সারারাত লঞ্চযাত্রা শেষে বেলা ১টার দিকে তারা গভীর অরণ্য পেরিয়ে কটকা সী-বিচে পৌঁছায়। নির্ঘুম রাতের  ক্লান্তি ভূলে উল্লাসে মেতে ওঠে তারা।দলবেঁধে নেমে পরে সব সমুদ্র স্নানে,কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে উঠল উন্মুক্ত পায়ে হেঁটে  সাগর পাড়ের মুক্ত হাওয়ার স্বাদ আস্বাদনে,কয়েকজন আবার দল বেধে বল নিয়ে ছুটতে লাগল নোনাপানিতে। 
হঠাৎ আত্নচিৎকার। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিছু মানুষের  'বাঁচাও, বাঁচাও' চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে সৈকতের বাতাস।  কিছুক্ষনের মধ্যে সবাই ব্যাপারটা বুঝতে পারলো একটু দূরে সাগরের ঢেউয়ের উপর ভেসে যাচ্ছে কয়েকটা মাথা। সাথে দেখা যাচ্ছে  তাদের উঁচু করা হাতগুলো। বাঁচার তাগিদে  অবিরত হাত নাড়তে থাকা হাত গুলো জোয়ারের  টানে ভেসে যাচ্ছে আরো গভীরে। সবাই হন্তদন্ত ছুটতে লাগল পাগলের মত।একজনকে একটু উপরে এনেই আবার ছুটে যায় অন্য একজনকে উদ্ধারে। কেউ কেউ বেঁচে ফিরতে পারলেও অনেককেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনে প্রিয় সহপাঠীদের করুণ মৃত্যুর দৃশ্য দেখে অনেকেই সংঙ্গা হারিয়ে ফেলে।
সাগরে ভেসে থাকা দেহগুলো  ততক্ষনে তলিয়ে গিয়েছে আরো গভীরে । অসহ্য যন্ত্রনায়  ছটফট করছে সবাই।কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে তাদের ক্লান্ত দেহগুলো।তখনো কেউ জানে না কতজনকে ফেলে এসেছে তারা।লঞ্চে এসে এক এক করে নাম ধরে ডাকা হচ্ছে সবাইকে। খুজে না পেলে ধরে নেয়া হচ্ছে তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছে  শেষে দেখা যায় ৯জনকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। সর্বনাশী সৈকত গ্রাস করে নিয়েছে  ১১টি তরুন প্রান।  
দুর্ঘটনায় যারা শাহাদতবরণ করেছিলেন তারা হলেন, আরনাজ রিফাত রূপা, মোঃ মাহমুদুর রহমান, মাকসুমুল আজিজ মোস্তাজী, আব্দুল্লাহ হেল বাকী, কাজী মুয়ীদ বিন ওয়ালী, মোঃ কাওসার আহমেদ খান, মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব, মোঃ আশরাফুজ্জামান, মোঃ তৌহিদুল এনাম। এছাড়া বুয়েটের দু'জন ছাত্রের নাম সামিউল ও শাকিল।
সেই থেকে দিনটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে কটকা সৌধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ