Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

৯০'দশকের প্রেম



পাকিজা পাখিঃ
৯০ দশক কেবল একটি সময়কাল নয়! এটা একটা অনুভূতি, একটা আবেগ!
ছোট বেলার এমন একটা সময় যেখানে ৯০ দশকের ছোটদের সময় কেটেছে চমৎকারভাবে! কখন ঘরে খেলে কখনোবা বাইরে খেলতে গিয়ে। কখনো ভাই বোন মিলে ক্যারামবোড খেলে কখন বা লুকোচুরি করে, ২৫ বা ৫০ পয়সা বিনিময়ে মজার লজেন্স আমরা খেতে পেতাম। এত সুন্দর ছিল সেই সময়কার সবকিছু। হাওয়াই মিঠাই ছিল কাঁচের জারে, কখনো এই হাওয়াই মিঠাই সাদা আবার কখনো গোলাপি! মুখে পুড়ে নিলেই কয়েক সেকেন্ডেই মিলিয়ে যেত মুখের ভেতর। এত এত লোভ কখনো আমার হয়নি সেই হাওয়াই মিঠাই নিয়ে। ঘরে বসে সময় কাটানোর জন্য ছিল চমৎকার খেলা “লুডু”। কখনো ৪ জন আলাদা ভাবে আবার কখনো দু জন দুজন করে জোড়া করে। সবাই মিলে এই লুডু খেলতে গিয়ে কখনো হয়েছে রাজ্যের যুদ্ধ আবার কখনো হয়েছে রাজ্য জয় করার মত আনন্দ,যে ঈদের দিনে মত।
নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনে একটাই চ্যানেল ছিল, বিটিভি! কি অসাধারণ স্বপ্নের মায়াঞ্জনে আঁকা ছিল বিটিভি। 
 মোগলি, দুপুরে বাংলা ছায়াছবি, সন্ধ্যায় আলিফ লাইলা/ আর একটা জিনিস ছিল, ‘ইত্যাদি!’। নব্বইয়ে বাংলা সিনেমা ছিল সত্যিকার অর্থেই ‘বাংলা সিনেমা’। নব্বইয়ে আমাদের ছিল সত্যিকার নায়ক নাইকা, আনোয়ার হোসেন রাজ্জাক, শাবানা,যাবেদ ববিতা, কবরি, সোহেল রানা,আসাদ
নব্বইয়ের দশকে কোন ফেসবুক ছিল না, ছিল না অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক ছিল হৃদ্যতায় পূর্ণ। সেলফোনমুক্ত সময় ছিল নব্বই দশক, চাইলেই হারিয়ে যাওয়া যেত যখন তখন। ল্যান্ডফোন ছিল তবে সবার ছিল না।

নব্বইয়ের সময় এদেশে জঙ্গি-মৌলবাদী ছিল না, পিস্তল-বোমা-গ্রেনেড হাতে সন্ত্রাসীদের আধিক্যও ছিল না। সে সময় পাড়ায় পাড়ায় বাকের ভাই টাইপের কিছু গুন্ডা ছিল। শার্টের উপরের বোতাম খোলা, মুখে ভারী গোঁফ, চোখে কালো চশমা আর গলায় চেন পরা এইসব গুন্ডাদের অস্ত্র ছিল হকিস্টিক অথবা ক্ষুর, খুব বেশি হলে, বাশের তৈরি শরকি, বেতের তৈরি ঢাল,আর রামদা।
৯০’র প্রেম
মায়ের মুঠোফোন বা দাদার মুঠোফোনে নিয়ে রাত জেগে আমরা সবাই টুকটাক প্রেমেরগল্প করেছি। কখনো ধরা খেয়েছি কখনো বা পার পেয়েছি কিন্তু সেই সময়ের প্রেমগুলো ছিল মুঠোফোনে আর চোখ রাস্তায় দিকে থাকতো কখন স্কুল ছুটি হবে, মনের মানুষ কখন বাইরে বের হবে, পুখুরে পানি আনতে যাবে, বন্ধুকে লুকিয়ে একটা মিসডকল বা টেক্সট ম্যাসেজ দিয়ে আবার এটাই বলতে দেখেছি যে “খবরদার ফোন দিও না যেনো, মা থাকবে কাছে”। স্কুলে বা কলেজে যাওয়ার পথে এক পলক দেখার মধ্যে যে আকুলতাটা বিরাজ করত সেই আকুলতা আজ আর কই! পরন্ত বিকেলে ছাদে কিছু সময় কাটানো। ঘুড়ি উড়ানোর সময় চোখে চোখে কথা বলে যাওয়া। ছাদআলাপ এবং ঢাকার ছাদে কাটানো সময় সবকিছুই মনে করিয়ে দেয় এখনকার সময়ে সবকিছু কতটা সহজ ছিল! কখনো মনের খবর জানতে লেখা হতো চিঠি সেটা পৌঁছাতে এবং আবার খবর ফিরে আসতে সময় লাগত কখনো এক সপ্তাহ আবার কখনো দুই সপ্তাহ! অপেক্ষায় থেকে প্রহর গোনার ভেতর যে একটা ভালোবাসা বিদ্যমান তা ৯০ দশকের এই মর্মগাথারই প্রতিফলন। অপেক্ষা মানুষের সকল আবেগকে দৃঢ় করে।  
তখনকার সময়ে ঘর ছোট বড় যেমনই হোক না কেন বারান্দা বা খোলামেলা উঠান অথবা বাগান থাকতো। জায়গা জমির বড় একটা অংশ জুড়ে থাকতো বাগান। সেই বাগানে থাকতো ফুল ফলের নানারকম গাছ! পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর একটা বড় অংশ কেটে যেতো এই উঠানে সেই সময়ে পরিবার নিয়ে একই ছাদের নিচে সবাই মিলে থাকা হতো, এতে যেমন পারিবারিক সম্পর্ক আরও মজবুত হতো তেমনি স্মৃতির ঝুলিতে জমা পড়তে থাকে সুন্দর সব মুহূর্ত। সারাদিন সকলে যে যেখানেই সময় কাটাক না কেন দিনের একটা সময় তারা সকলে এক সাথে সময় কাটাতো। দুটো বা একটা ঘর থাকতো বেশ বড়  যেখানে জড়সড় হয়ে থাকতো গোটা পরিবার। সে সময়ে একক পরিবারের তেমন একটা চল ছিল না, সবাই সপরিবারে এক ছাঁদের নিচে থাকতো। বিরাট বড় একটা ঘরে কম করে হলেও দুটো খাট এক সাথে রাখা থাকতো সকলে মিলে সেখানেই গুটিসুটি করে থাকা হতো। 


ফেলে আসা ৯০ দশক এর সময়টা এমনই ছিল যেখানে মায়া মমতা ঘেরা সময় কাটাতো সকলে। আমরা তখনও জানতাম না, আমরা সকলে মিলে মিশে থাকার মধ্যে খুঁজে পেতাম আনন্দ। আমরা জানতাম না একাকীত্ব কি কেমন তার স্বাদ। সবাই মিলে গল্প গুজব আড্ডা সবকিছুই হতো মনে পরে মান্না দে’ এর কালজয়ী গান কফি হাউজ? একটা টেবিলে সেই ২/৩ ঘন্টা,  তখন আমাদের ব্যস্ততারাও অবসরে ছিল। আমরা গল্প গানে সময় কাটাতে জানতাম। সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া কিংবা বসে গল্প করা। টেলিভিশন বা সিনেমা হলে থাকতো লম্বা লাইন। এখন আর পাওয়া যায় না ফেলে আসা দিন গুলি!!! 
নব্বইয়ের আরও কত অসাধারণ সব স্মৃতি যে আছে, আমি নিশ্চিতভাবেই অনেককিছু মিস করে গেছি। প্রান্তে এসে শুধু এটুকুই বলা যায়, নব্বইয়ে জীবন ছিল, সত্যিকার জীবন! নব্বইয়ে ভালবাসা ছিল ভালবাসার মতোই.........

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ