Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

বেসরকারী জুট মিল শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া— বেতন ও চুড়ান্ত পাওনা নিয়ে সংশয়



 সাইফুল্লাহ তারেক , শিল্পাঞ্চল (খুলনা) সংবাদদাতা: আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আগে বেতন—বোনাস পরিশোধ নিয়ে খুলনার আটরা মিরেরডাঙ্গা  শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে প্রতি বছরই। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেও এর পুনরাবৃত্তির শংকা রয়েছে। সব জুটমিলে  ঠিক সময়ে বকেয়া, বেতন ও বোনাস হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। বিগত কয়েক বছরে খুলনার আটরা ও মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকার ৬ টি বেসরকারী জুট মিল পর্যায়ক্রমে  বন্দ হয়ে যায়।  এ নিয়ে শিল্প এলাকাগুলোয় কিছু মাত্রায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়। বর্তমানে শ্রম অসন্তোষ না থাকলেও ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বেতন—ভাতা পরিশোধ নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প গোয়েন্দারা। বেতন—বোনাসের দাবিতে বেসরকারী পাট, সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে,   তবে বড় কোন শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবে না বলে মনে করছেন তারা। জানা যায়, আটরা ও মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকায়  মোট ৮ টি বেসরকারী জুট মিল রয়েছে এর মধ্যে ৬ টি মিল বন্দ ।  আটরা ও মিরেরডাঙ্গা  শিল্প এলাকায় যেসব জুট মিল  ঈদের আগে বকেয়া বেতন—বোনাসও চুড়ান্ত পাওনা  পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে বলে সে তালিকায় রয়েছে মহসেন, সোনালী, এ্যাজাক্স, ট্রান্সওয়েশন ফাইবার্স । তবে শিরোমনি জুট স্পিনার্স মিলের শতাধিক শ্রমিককে বোনাস প্রদান করা হয়েছে ।  জানা জায়, মিরেরডাঙ্গার এ্যাজাক্স জুট মিলটি ২০১৪ সালের ২২ মে  বন্ধ হয়ে যায়। মিল বন্ধ হলেও মিল মালিকের কাছে শ্রমিকদের প্রায় ১৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিককের বকেয়া বেতনতো দুরে থাক সেমাই চিনি কেনার মতো টাকাও দিচ্ছেনা মালিকপক্ষ । শিরোমনি শিল্পাঞ্চলের মহসেন জুট মিলটি দীর্ঘ ১৩ মাস লে—অফ থাকার পর ২০১৪ সালের  ১৭ জুলাই  মিলটি বন্ধ ও মিলের ৬৬৭ জন শ্রমিক—কর্মচারী ছাঁটাই করে মিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক কর্মচারীদের প্রায় ১০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। নানা অজুহাতে মিলের মালিক—শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করছে না।  ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আটরা শিল্প এলাকার   আফিল মিলটি বন্ধ হয়। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিককে টাকা দিলেও বর্তমানে  অনেক শ্রমিক মিল মালিকদের কাছে  টাকা পাওনা রয়েছে। শিরোমনি বিসিক শিল্প  এলাকার  জুট স্পিনার্স মিলটি ২০১৬ সালে বন্ধ হয়। মিলটিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১২শ’ শ্রমিক কাজ করতো। শ্রমিক—কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা রয়েছে কয়েক কোটি টাকা। তবে মিলের সাধারন শ্রমিক কর্মচারী ও বেসরকারী পাট সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন এর ধারাবাহিক শ্রমিক আন্দোলন এর কারনে খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালকের দপ্তরে ত্রিপক্ষিয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি গতকাল (বৃহস্পতিবার ) মিলের ৮ শতাধিক শ্রমিক কর্মচারীকে  প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা বোনাস প্রদান করেছে মালিক পক্ষ । এছাড়া মিলটিতে ইতিমধ্যে মেইনটেইন্স এর কাজ শুরু হয়েছে কিছুদিন এর ভিতরে আবোরো উৎপাদনে যাবে মিলটি ।  মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকার সোনালী জুট মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের মালিকপক্ষের কাছে প্রায়ে ২২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে কয়েকদিন আগে বিদ্যু বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যু বিভাগ  । মহসেন জুট মিলের স্পিনিং মিলের শ্রমিক সুলতান শেখ বলেন  নিজের জীবন যৌবন পার করলাম, মিলে কাজ করে শেষ বয়সে এসে কাজ করার ক্ষমতা নেই। মালিকের ৩ লক্ষ টাকা পাওনা রয়েছে, টাকাটা দিলেও অন্য কিছু করে খেতে পারতাম কয়দিন পর ঈদ সারাবছর কষ্টে থাকলে বছরের একটা দিনে পরিবারের সদস্যদের মুখে ভালো কিছু খাবার তুলে দিতে হয় ।  তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন,  এভাবে ধুকে, ধুকে মরার চেয়ে একবারে মরে যাওয়ায় ভালো।বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক—কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান বলেন, শ্রমিক—কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ না করে পাটকলগুলো বন্ধ রাখায় অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বেকার হয়ে পড়া এসব মিলের শ্রমিক—কর্মচারী পরিবার ঈদের দিন একটু ভালোমন্দ খাবে সে সুযোগটুকুও বেসরকারী জুট মিলের মালিকপক্ষ করে দিচ্ছেনা এটা অন্যায় এবং জুলুম। অতিদ্রুত খুলনা জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে  শ্রমিকরা  যাহাতে ঈদের পুর্বে তাদের পাওনা  পেতে পারে সে ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসকের  সুদৃষ্টি কামনা করেন এ শ্রমিক নেতা , তিনি বলেন বেসরকারী জুট মিলের শ্রমিকরা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া  খুলনাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিকের দু:খ, দুর্দশা অবসান হবে না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ