সাইফুল্লাহ তারেক , আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি ঃ নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার হত্যা মামলার আসামি মৃত হাসান আলী শেখের পুত্র মোঃ জাকারিয়া মৃত আক্তার আকুঞ্জির পুত্র মোঃ রহিম আকুঞ্জি (৩০) জেল হাজতে প্রেরন করেছে আদালত । গত ৮ মে মশিয়ালী দক্ষিনপাড়ার মৃত হরমুজ মোল্লার পুত্র মোঃ সেলিম মোল্লা (২৬), মাতা নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে আদালতে তার পুত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন । খানজাহান আলী থানার সিআর যার নং ৫০/২২ । গত ১৮ মে মহানগর হাকিমের আদালতে ১ নং আসামি জাকারিয়া ও নং আসামি রহিম আকুজ্ঞি জামিন নিতে গেলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরন করেন। মামলার অপর আসামিরা হলো মোঃ জাফরিন শেখ (৩২), মোঃ মিল্টন শেখ (৪২), ৪। মোঃ রহিম আকুঞ্জি (৩০), মোঃ পিয়াল শেখ (২০), মোসাঃ নূপুর (২৭), মোঃ আক্তার শেখ (৩৬), মোঃ নজরুল (৪৫), মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ (৩৫) ও মোঃ ইলিয়াস (৫০)। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায় গত ২৯ শে মার্চ বিকাল ৫ টায় ফুলতলা বাজারের জামরুল তলায় সেলিম মোল্লা বসে ছিলো । এ সময় ১নং আসামী—মোঃ জাকারিয়া শেখ বলে ভাই তুই তো আমাদের অনেক কাজ করে করিয়া দিয়েছিস। এবার আমাদের একটা কাজ করে দে। তখন আসামী মোঃ জাকারিয়া শেখ মশিয়ালী গ্রামস্থ জনৈক মোঃ মুজিবর শেখ এর বাড়ীতে দুটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখিবার জন্য বলে এবং এই কাজের জন্য সেলিম মোলাস্ন কে ৫০,০০০/—(পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সেলিম তাহার কথায় রাজী না হলে সে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্ন ভয়—ভীতি প্রদান করে চলে যায়। গত ১মার্চ রাত্র অনুমান সাড়ে পৌনে ১০ টার সময় মশিয়ালী সিএন্ডবি মাঠের পাশে রাস্তার উপর পৌঁছাইলে কৌশলে জাকারিয়ার বোন নুপুরের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় টাকার প্রলোভণ সহ বিভিন্ন ভয়—ভীতি দিয়ে জনৈক মুজিবরের বাড়ীতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার জন্য বলে। তাদের কথায় রাজী না হইলে তাহারা বিভিন্নভাবে বুঝইতে থাকে। এপর্যায়ে তাহারা গত ০২ এপ্রিল তারিখ রাত্র অনুমান আড়াইটার সময় মশিয়ালী আফিলগেটে আসামী মোঃ জাকারিয়া শেখ‘দের পুরাতন বাড়ীতে সেলিমকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে বাক—বিতন্ডা শুরু করে। বাক—বিতন্ডার একপর্যায়ে রাত্র অনুমান রাত ৩ টার সময় ১ নং আসামি জাকারিয়া শেখ সেলিমের মুখ চেপে ধরে, ৩নং আসামী—মোঃ মিল্টন শেখ গলা চাপিয়া ধরে, ৪নং আসামী—মোঃ রহিম আকুঞ্জি ডান পা চাপিয়া ধরে, ৭নং আসামী মোঃ আক্তার শেখ হাত ধরে রাখে, ১০নং আসামী ইলিয়াস বাম হাত ধরে রাখে এবং ৬নং আসামী নূপুর বাদে অন্যান্য সকল আসামীগণ আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাপিয়া ধরিয়া রাখে ও ২নং আসামী মোঃ জাফরিন শেখ এর হাতে থাকা চাপাতি দিয়া তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে সেলিমের বাম পায়ের আঙ্গুলের উপর কোপ দিয়ে তার সবকটি আঙ্গুল পা থেকে আলাদা করে ফেলে এবং চাপাতি দিয়া বাম পায়ের তলা, মাথার উপর, ডান কাধের নিচে বাহুর উপর এলোপাতারী কোপাইয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়লে আসামীরা তাকে মৃত ভেবে রেল লাইনের উপর ফেলিয়া রেখে চলে যায়। রাত্র অনুমান সাড়ে ৩ টার সময় আমার জ্ঞান ফিরিলে ডাকচিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি দেখিয়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়া ভর্তি করার পরামর্শ প্রদান করেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আমার বাড়ীর লোকজন উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়া ভর্তি করে। ভুক্তভোগি সেলিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষে ছাড়পত্র সংগ্রহ করে গত ১২ মার্চ তার বর্তমান ঠিকানার অভয়নগরের ধূলগ্রামের ছাকু পল্টু এর ভাড়াটিয়া বাড়ীতে আসে। গত ১৪ মার্চ সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টার সময় ১নং আসামী—মোঃ জাকারিয়া শেখ, ৩নং আসামী—মোঃ মিল্টন শেখ ও ৪নং আসামী—মোঃ রহিম আকুঞ্জি‘ সেলিমের বর্তমান ঠিকানার ভাড়াটিয়া বাড়ীতে গিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকাইয়া উল্লিখিত ঘটনা তারা না ঘটিয়ে মশিয়ালী গ্রামের কয়েকজন নিরাপরাধ লোকের নাম বলিতে বাধ্য করে এবং সেলিমের কথা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখে। এ সময় আসামিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি হইয়া ভীত হইয়া সেলিম মশিয়ালী গ্রামের কয়েকজন নিরাপরাধ ব্যক্তির নাম বলে । এদিকে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামিদ্বারা নিরিহ ব্যক্তিদেরকে অস্ত্রদিয়ে ফাসানোর চেষ্টা ও সেলিমকে হত্যাচেষ্টাকারীদের অতিদ্রত গ্রেফতার করে দ্রতবিচার আইনে মামলা সম্পন্ন করার আহবান জানিয়েছেন মশিয়ালী সন্ত্রাস নিমুর্ল কমিটির নেতৃবৃন্দ । তা না হলে অতিদ্রত কঠিন কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে বলেও তারা জানান ।

0 মন্তব্যসমূহ